যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি-তে বিরাট দুর্নীতি! সিবিআই তদন্তের দাবিতে সরাসরি রাজ্যপালের দরবারে এবিভিপি

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি (PhD) সংক্রান্ত ভর্তি ও গবেষণার ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতি এবং অনিয়মের অভিযোগ তুলে এবার সরাসরি রাজ্যপাল তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য আর এন রবির দ্বারস্থ হলো অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP)। গত শুক্রবার রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। যাদবপুরের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে এই সমস্ত দুর্নীতির নিরপেক্ষ ও সিবিআই (CBI) তদন্তের দাবি জানিয়েছে সংঘের ছাত্র সংগঠনটি।

এবিভিপির প্রধান অভিযোগসমূহ:

সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি-র গবেষণা সুযোগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং একাধিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে। অভ্যন্তরীণ তদন্তের পরিবর্তে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কেন্দ্রীয় সংস্থার মাধ্যমে এই দুর্নীতির গভীরে গিয়ে সত্য সামনে আনা প্রয়োজন। শুধু পিএইচডি দুর্নীতিই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ফলক ভাঙার ঘটনায় অধ্যাপক রাজেশ্বর সিনহার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ এবং জুটা (JUTA)-র সাধারণ সম্পাদক পার্থপ্রতিম রায়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলিও নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে স্মারকলিপিতে।

উভয়পক্ষের প্রতিক্রিয়া:

এবিভিপির রাজ্য সম্পাদক নীলকণ্ঠ ভট্টাচার্য বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ এবং ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে প্রতিটি অভিযোগের যথাযথ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি।” অন্যদিকে, এই সমস্ত অভিযোগ ও শোরগোলের প্রেক্ষিতে যাদবপুরের শিক্ষক সংগঠন ‘জুটা’ (JUTA)-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীনতা আন্দোলনের উত্তরাধিকার বহন করে। তাই এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে কোনো ধরনের ভুল প্রচার বা কুৎসা চালানো অবিলম্বে বন্ধ হওয়া বাঞ্ছনীয়। সবমিলিয়ে, পিএইচডি দুর্নীতি ও সিবিআই তদন্তের এই দাবিকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এখন দেখার রাজভবন এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *