মশলা কিনতে গিয়ে বড় বিপদ! নামী সংস্থার হিংয়ে ভেজাল মেলার পরই কঠোর পদক্ষেপ FSSAI-এর

রান্নার স্বাদ বাড়াতে যে হিং ব্যবহার করছেন, তা কতটা খাঁটি? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে। খাদ্যপণ্যের গুণমান ও মানদণ্ড বজায় রাখতে ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (FSSAI) অত্যন্ত কড়া পদক্ষেপ করল। বাজারের জনপ্রিয় দুই মশলা প্রস্তুতকারক সংস্থা—এভারেস্ট (Everest) এবং লালজী গোধূ অ্যান্ড কোম্পানি (Laljee Godhoo & Co.)-র মিশ্রিত হিং বা কম্পাউন্ড হিং বিক্রির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দেশের খাদ্য সুরক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় এই দুটি কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এফএসএসএআই সূত্রে জানা গিয়েছে, এক গ্রাহকের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের হিংয়ের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা শুরু হয়। মুম্বই ও গুজরাটের উমরগাঁও-এ অবস্থিত এভারেস্ট এবং লালজী গোধূর লাইসেন্সপ্রাপ্ত উৎপাদন ইউনিটগুলি থেকে সংগ্রহ করা নমুনাগুলি ল্যাবে পাঠানো হয়েছিল। পরীক্ষার রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, এই ব্র্যান্ডগুলির হিংয়ের নমুনায় নির্ধারিত মানের তুলনায় অনেক কম ঘনত্ব রয়েছে। বিশেষ করে লালজী গোধূর ছয়টি হিং-এর নমুনায় বিপজ্জনক মাত্রায় অতিরিক্ত স্টার্চের উপস্থিতি ধরা পড়েছে।

সাধারণত, মিশ্রিত হিং তৈরির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হয়। খাঁটি হিংয়ের সঙ্গে গাম, স্টার্চ বা ময়দা মিশিয়ে এই কম্পাউন্ড হিং তৈরি করা হয়, যেখানে নিয়ম অনুযায়ী অন্তত ৫ শতাংশ অ্যালকোহলে দ্রবণীয় নির্যাস থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু সাম্প্রতিক পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, অভিযুক্ত ব্র্যান্ডগুলির পণ্যে এই উপাদানের মাত্রা ৩ শতাংশের নিচে, কোথাও বা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। অর্থাৎ, গ্রাহকদের ভেজাল পণ্য গছানো হচ্ছিল। এর পরেই জনস্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে ওই মিশ্রিত হিংয়ের বিক্রি নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে এফএসএসএআই। হিংয়ের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় মশলায় এমন মারাত্মক ভেজালের খবর সামনে আসায় দেশজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *