আমেরিকার সঙ্গে টক্কর দিতে গিয়ে দেউলিয়া হওয়ার দশা! হু হু করে কমল ৩৫ শতাংশ বাণিজ্য, ভেঙে পড়ছে প্রভাবশালী এই রাষ্ট্র

আমেরিকার সঙ্গে দীর্ঘ ছ’ মাসের চলমান তীব্র সামরিক দ্বন্দ্ব ও কড়া অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মারাত্মক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ইরানের অর্থনীতির ওপর। দেশটির চরম আর্থিক সংকটের কথা স্বীকার করে ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশ্‌কিয়ান জানিয়েছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং কৌশলগত নৌ-অবরোধের জেরে পারস্য উপসাগরীয় এই দেশটির আমদানি ও রপ্তানি এক ধাক্কায় প্রায় ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। এমতাবস্থায় মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বেকারত্ব দূর করাকেই সরকার এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে।

৬৬ শতাংশে পৌঁছেছে বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতি:

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসেই ইরানের বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতি বা ইনফ্লেশন রেট রেকর্ড ভেঙে সরাসরি ৬৬ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। রাজধানী তেহরানের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও পারিবারিক বাজেট এই যুদ্ধের জেরে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মমতবা খামেনেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের লাগামছাড়া দাম এবং ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব দূর করতে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মার্কিন ডলারের ওপর থেকে নির্ভরতা কমিয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার সামলানোর ওপর জোর দিচ্ছে তেহরান।

কূটনীতি ও প্রতিরক্ষায় অনড় অবস্থান:

অর্থনৈতিক বিপর্যয় সত্ত্বেও আমেরিকার চাপের মুখে নতি স্বীকার করতে নারাজ ইরান। দেশটির সাফ জানিয়ে দিয়েছে, জাতীয় স্বার্থ এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার ক্ষেত্রে কূটনীতি ও সামরিক প্রস্তুতি—দুটোই সমানভাবে বজায় রাখা হবে। এরই মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান বিন জেসিম আল থানি তেহরান সফর করেছেন এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন। অর্থনৈতিক চাপ যতই বাড়ুক না কেন, নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ও সুরক্ষায় একচুলও ছাড় দিতে রাজি নয় তেহরান।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *