সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকা গায়েব! সমবায় ব্যাঙ্কের এই বিশাল কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল

দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার পিপলস কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কে প্রায় ৪০ কোটি টাকার বিশাল আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হলেন রাজ্যের সমবায় মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। শনিবার দুর্গাপুরে এসে এই ঘটনায় কার্যত কড়া বার্তা দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সমবায় ব্যাঙ্কে কোনো রকম দুর্নীতি বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।
কী ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে?
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে সুদ-সহ অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ ৪০ কোটি ৬০ লক্ষ ৫১ হাজার ৫৬৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভুয়ো বা অসঙ্গত নথি ব্যবহার করে এই বিপুল অঙ্কের ঋণ পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল। এমনকি একই ব্যক্তি বা সংস্থাকে একই মাস বা বছরে একাধিকবার ঋণ দেওয়ার মতো ঘটনাও সামনে এসেছে। এই ধরনের মোট ২১টি বড় ঋণ চিহ্নিত করা হয়েছে। ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে ব্যাঙ্কের সমস্ত নিয়মকানুন শিকেয় তোলা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
কড়া পদক্ষেপ ও ভিজিল্যান্স তদন্তের হুংকার:
ঋণগ্রহীতাদের পাশাপাশি এই দুর্নীতির নেপথ্যে ব্যাঙ্ক আধিকারিকদের ভূমিকাও সমানভাবে খতিয়ে দেখা হবে। মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, অভিযুক্ত কোনো আধিকারিক যদি ইতিমধ্যে অবসর নিয়ে থাকেন বা অন্যত্র বদলি হয়ে যান, তবুও তদন্তের আওতা থেকে তাঁদের ছাড় দেওয়া হবে না। সমস্ত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে এবার উচ্চপর্যায়ের ভিজিল্যান্স তদন্ত করা হবে।
পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের আমানতের সুরক্ষায় কড়া অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। যাঁদের নামে এই বিপুল অঙ্কের ঋণ রয়েছে, তাঁরা টাকা ফেরত না দিলে আইন অনুযায়ী জেল এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মন্ত্রী। দীর্ঘ দিন ধরে ব্যাঙ্কের একই বিভাগে একধিক ব্যক্তি দায়িত্বে থাকার বিষয়টিও এখন কড়া নজরে রাখা হচ্ছে।