পুজোর আগেই বড় ধাক্কা! সেপ্টেম্বরে টানা ব্যাঙ্ক ধর্মঘট, এটিএম থেকেও মিলবে না ক্যাশ? জানুন বিশদ

দুর্গাপুজোর ঠিক আগে ফের একবার বড়সড় আর্থিক ভোগান্তির মুখে পড়তে চলেছেন সাধারণ গ্রাহকরা। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবিকে সামনে রেখে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে দফায় দফায় দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাঙ্ক ইউনিয়নস (UFBU)। সংগঠনের এই দীর্ঘমেয়াদী আন্দোলনের জেরে সেপ্টেম্বর মাসের নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনে ব্যাঙ্কের স্বাভাবিক কাজকর্ম নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সেপ্টেম্বরে কদিন ধর্মঘট ও কী কী পরিষেবা ব্যাহত হবে?
ব্যাঙ্ককর্মীদের বিভিন্ন ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরে একাধিক দাবিদাওয়া নিয়ে সরব রয়েছেন। সেই সমস্যার সমাধান না হওয়ায় এবার সেপ্টেম্বরে চার দিন পর্যন্ত বড় আন্দোলনের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি। এই ধর্মঘটের দিনগুলিতে ব্যাঙ্কের শাখায় গিয়ে টাকা জমা দেওয়া, নগদ তোলা, চেক ক্লিয়ারেন্স বা ড্রাফটের মতো কাউন্টার পরিষেবাগুলি পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এটিএম ও অনলাইন লেনদেনের কী পরিস্থিতি হবে?
ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকাকালীন গ্রাহকদের মনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন থাকে এটিএম (ATM) পরিষেবা নিয়ে। যদিও শাখা বন্ধ থাকলেও এটিএম পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ হয় না, তবুও ধর্মঘটের জেরে ক্যাশ রিফিলিং বা রক্ষণাবেক্ষণের সমস্যায় অনেক জায়গাতেই টাকা তুলতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে পারেন সাধারণ মানুষ। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং, মোবাইল অ্যাপ, ইউপিআই (UPI), এনইএফটি (NEFT)-এর মতো ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবুও শেষ মুহূর্তের ঝামেলা এড়াতে আগে থেকেই নগদ টাকার বন্দোবস্ত করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
অক্টোবরেও বড় বিপদের আশঙ্কা:
এখানেই শেষ নয়, দাবি না মানলে পুজোর মাস অক্টোবরেও এই ধর্মঘট অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে UFBU। উৎসবের মরশুমে কেনাকাটা, বেতন ও পেনশনের মতো জরুরি কাজের জন্য এমনিতেই ব্যাঙ্কে সাধারণ মানুষের ভিড় উপচে পড়ে। ফলে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর—টানা দুই মাস ব্যাঙ্কের এই অচলাবস্থা জারি থাকলে গ্রাহকদের যে চরম আর্থিক হেনস্থার মুখে পড়তে হবে, তা বলাই বাহুল্য। তাই জরুরি লেনদেনগুলি এখনই সেরে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।