ফিক্সড ডিপোজিট করার এই সহজ অঙ্কটা জানেন কি? একটু চালাকি করলেই মিলবে দ্বিগুণ ফায়দা!

ফিক্সড ডিপোজিট বা এফডি (FD)-কে আমাদের দেশে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে সহজ, নির্ভরযোগ্য এবং নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। টাকা জমা রাখুন, নির্দিষ্ট হারে সুদ পান এবং মেয়াদ শেষে মূলধন তুলে নিন—এটাই চিরকালের পরিচিত নিয়ম। তবে জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে আর্থিক চাহিদা ও লক্ষ্য সম্পূর্ণ আলাদা হয়। অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণদের কাছে যেমন এটি সংসার চালানোর নিশ্চিত উৎস, তেমনই তরুণ বা পরিবারের কাছে এটি আলাদাভাবে জরুরি নিরাপত্তার চাবিকাঠি। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ফিক্সড ডিপোজিটের নিয়ম বা কৌশল কীভাবে বদলানো উচিত, তা একনজরে দেখে নেওয়া যাক।
প্রবীণদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাই প্রথম:
অবসরপ্রাপ্তদের জন্য বেশি রিটার্নের চেয়েও নিয়মিত আয় এবং মূলধনের সুরক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রায়ত্ত বা বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলি সাধারণ গ্রাহকদের তুলনায় প্রবীণ নাগরিকদের জন্য অতিরিক্ত সুদের সুবিধা দিয়ে থাকে। বর্তমানে আরবিআই-এর রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশ হওয়ার সুবাদে আকর্ষণীয় সুদের হার পেতে প্রবীণরা দীর্ঘমেয়াদি এফডি বেছে নিতে পারেন।
পাশাপাশি, ‘এফডি ল্যাডারিং’ (FD Laddering) পদ্ধতিটি এক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর। পুরো টাকা একসঙ্গে একটি এফডি-তে না রেখে বিভিন্ন মেয়াদে একাধিক ভাগে বিনিয়োগ করা বুদ্ধিমানের কাজ। এতে নির্দিষ্ট সময় অন্তর নিয়মিত ক্যাশ ফ্লো বা টাকা হাতে আসবে এবং জরুরি প্রয়োজনে বড় এফডি ভাঙার ঝক্কি পোহাতে হবে না। এছাড়া, যোগ্য প্রবীণ নাগরিকরা আয়কর আইনের ৮০টিটিবি ধারার অধীনে বছরে ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত সুদের ওপর করছাড়ের সুযোগও নিতে পারেন।
তরুণদের জন্য কেন এফডি জরুরি?
কুড়ির কোঠায় থাকা তরুণ বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ বৃদ্ধির জন্য এফডি হয়তো সেরা মাধ্যম নয়, কারণ মুদ্রাস্ফীতি এর প্রকৃত রিটার্ন কিছুটা কমিয়ে দিতে পারে। তবে এর মানে এই নয় যে তরুণদের জন্য এফডি অপ্রয়োজনীয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো তরুণ বা যুবকের অন্তত ছয় মাসের জরুরি খরচের সমপরিমাণ অর্থ এমন জায়গায় এফডি করে রাখা উচিত যা সহজে ও বিপদের দিনে দ্রুত ভাঙানো যায়। এর ফলে শেয়ারবাজারে ধস নামলেও জরুরি প্রয়োজনে লোকসানে স্টক বা মিউচুয়াল ফান্ড বিক্রি করতে হবে না।
পরিবারের ক্ষেত্রে লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগ:
পরিবারের ভবিষ্যতের জন্য একসঙ্গে একটি বড় এফডি করার চেয়ে বিভিন্ন আর্থিক লক্ষ্য সামনে রেখে আলাদা আলাদা এফডি করা অনেক বেশি লাভজনক। যেমন— এপ্রিল মাসের স্কুলের ফি, জুলাইয়ের বিমার প্রিমিয়াম কিংবা আগামী কয়েক বছরে বাড়ি বা গাড়ি কেনার ডাউন পেমেন্ট। প্রতিটি লক্ষ্যের জন্য আলাদা সময়সীমা ও মেয়াদের এফডি বেছে নেওয়াই শ্রেয়।
বিশেষজ্ঞদের মূল পরামর্শ হলো, কেবল সর্বোচ্চ সুদের হারের পেছনে না ছুটে নিজের নির্দিষ্ট আর্থিক লক্ষ্য, টাকার প্রয়োজনীয়তার সময় এবং নিরাপত্তার দিকটি মাথায় রেখে এফডি করা উচিত। সঠিক পরিকল্পনা থাকলে তবেই ফিক্সড ডিপোজিট থেকে মিলবে সর্বোচ্চ সুফল।