মাসে মাত্র ১০০০ টাকা বাড়ালেই কোটিপতি! SIP-র এই ছোট্ট নিয়মে বদলে যেতে পারে আপনার ভবিষ্যৎ

নিয়মিত বিনিয়োগের মাধ্যমে সম্পদ তৈরি করা অন্য যেকোনো উপায়ের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর। বিশেষ করে সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান বা এসআইপি-তে (SIP) যদি প্রতি বছর নির্দিষ্ট হারে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ানো যায়, যাকে বলা হয় ‘স্টেপ আপ’, তবে চক্রবৃদ্ধি সুদের (Compounding) সুবিধা বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের হিসাব বলছে, মাত্র ১ হাজার টাকা বেশি বিনিয়োগ দিয়ে শুরু করলে দীর্ঘ মেয়াদে তৈরি হতে পারে বিশাল আর্থিক ফারাক।
বিনিয়োগের অঙ্কের হিসাব
ধরা যাক, কেউ প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা দিয়ে এসআইপি শুরু করলেন এবং প্রতি বছর বিনিয়োগের পরিমাণ ১০ শতাংশ করে বাড়ালেন। যদি ধরে নেওয়া হয় যে ১২ শতাংশ প্রত্যাশিত রিটার্ন পাওয়া যাবে, তবে ১৫ বছরের বিনিয়োগের হিসাবে মোট বিনিয়োগ দাঁড়ায় ৩৪ লক্ষ ৩৬ হাজার ৪৯৯ টাকা। এর আনুমানিক রিটার্ন আসে ৬৫ লক্ষ ৭ হাজার ৮৫৭ টাকা এবং মোট ফান্ড বা কর্পাস হতে পারে ৯৯ লক্ষ ৪৪ হাজার ৩৫৭ টাকা।
এবার ওই ব্যক্তি যদি ৫ হাজারের বদলে মাত্র ১ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৬ হাজার টাকা থেকে এসআইপি শুরু করেন এবং বার্ষিক ১০ শতাংশ স্টেপ-আপ বজায় রাখেন, তবে ২০ বছরের হিসাবে মোট বিনিয়োগ দাঁড়াবে ৪১ লক্ষ ২৩ হাজার ৭৯৯ টাকা। এক্ষেত্রে আনুমানিক রিটার্ন হবে ৭৮ লক্ষ ৯ হাজার ৪২৯ টাকা এবং মোট মূল্য পৌঁছাতে পারে ১ কোটি ১৯ লক্ষ ৩৩ হাজার ২২৯ টাকায়। অর্থাৎ, প্রাথমিক বিনিয়োগ সামান্য বাড়ানোর ফলে পূর্বের হিসাবের তুলনায় মোট ফান্ড প্রায় ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বেশি হতে পারে।
দীর্ঘ মেয়াদে আরও বড় ব্যবধান
সময়সীমা ২৫ বছর হলে এই পার্থক্যের চিত্রটি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মাসে ৫ হাজার টাকা এসআইপি এবং প্রতি বছর ১০ শতাংশ স্টেপ-আপ করলে ২৫ বছরে মোট কর্পাস প্রায় ২ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা হতে পারে। অন্যদিকে, প্রাথমিক এসআইপি ৬ হাজার টাকা দিয়ে শুরু করলে ১০ শতাংশ বার্ষিক স্টেপ-আপের মাধ্যমে সেই কর্পাস বেড়ে প্রায় ২ কোটি ৫৬ লক্ষ টাকায় গিয়ে দাঁড়ায়।
অবশ্য শেয়ারবাজারের রিটার্ন কখনও সম্পূর্ণ নিশ্চিত নয়, ফলে চূড়ান্ত ফান্ড প্রত্যাশার সঙ্গে সামান্য এদিক-ওদিক হতে পারে। তা সত্ত্বেও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনা ও অবসরের সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে নিয়মিত বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দীর্ঘ সময় ধরে তা ধরে রাখার মাধ্যমে চক্রবৃদ্ধির পূর্ণ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।