খাঁটি ঘি বা পনির খাচ্ছেন তো? পুজোর আগে মার্জারিন ও নকল পনিরের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি হতেই চাঞ্চল্য!

বাজারে পাওয়া অনেক পণ্যই দেখতে সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ ও প্রাকৃতিক মনে হতে পারে, অথচ সেগুলির প্রকৃত উপাদানে বিরাট গরমিল থাকে। ঘি, মাখন বা পনিরের নাম শুনলেই আমাদের মনে যে বিশুদ্ধ খাবারের ছবি ভেসে ওঠে, তার আড়ালে অনেক সময় লুকিয়ে থাকে কৃত্রিম ও স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর উপাদান। ঠিক এই কারণেই বর্তমানে ‘মার্জারিন’ ও ‘অ্যানালগ পনির’-এর মতো বিষয়গুলি নিয়ে চারদিকে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি হরিয়ানা সরকার এই ধরণের পণ্যের ওপর এক বছরের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

মার্জারিন ও অ্যানালগ পনির আসলে কী?

সহজ কথায়, মার্জারিন হলো মাখনের একটি উদ্ভিজ্জ বিকল্প, যা উদ্ভিজ্জ তেল বা চর্বি থেকে তৈরি করা হয়। যদিও এর স্বাদ মাখনের মতো হতে পারে, তবুও এটি মাখন নয়। আসল সমস্যাটি হলো, বাজারে অনেক সময় ক্রেতাদের না জানিয়ে মাখনের নামে বা বিভ্রান্তিকর নামে এটি বিক্রি করা হয়। অন্যদিকে, ‘অ্যানালগ পনির’ হলো আসল দুধের তৈরি পনিরের একটি বিকল্প, যেখানে দুধের বদলে স্টার্চ বা উদ্ভিজ্জ তেল ব্যবহার করা হয়। দেখতে হুবহু পনিরের মতো হলেও এর পুষ্টিগুণ ও উপাদান সম্পূর্ণ আলাদা।

পুজোর ঘি ও প্রদীপের ঘির আসল সত্য

‘পুজো ঘি’, ‘প্রদীপ জ্বালানোর ঘি’ বা ‘হোম-যজ্ঞের ঘি’—এই নামগুলি শুনলেই সাধারণ মানুষ মনে করেন এটি ভোজ্য ঘি। কিন্তু কোনো পণ্যের গায়ে কেবল ‘ঘি’ শব্দটি লেখা থাকলেই তা নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণকারী ‘খাদ্য-উপযোগী ঘি’ হয়ে যায় না। হরিয়ানা সরকারের এই নিষেধাজ্ঞা প্রমাণ করে যে, পণ্যের লেবেলের মোড়ক বা নামের চেয়েও এর প্রকৃত উপাদান কতটা নিরাপদ, সেটাই সবচেয়ে বড় বিষয়।

আপনার করণীয় কী?

ভোক্তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত করতেই হরিয়ানা সরকার মাখন বা মাখন নামযুক্ত মার্জারিন বিক্রি এবং অ্যানালগ চিজের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। তাই পরবর্তী সময়ে বাজার থেকে ঘি, মাখন বা চিজ কেনার সময় শুধুমাত্র প্যাকেটের বড় নাম দেখে বিভ্রান্ত হবেন না। উপাদান ও লেবেল ভালোভাবে পড়ে তবেই কিনুন। রেস্তোরাঁয় খাবার খাওয়ার আগেও জেনে নিন সেখানে আসল না নকল পনির ব্যবহার করা হচ্ছে।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *