মেনোপজের বহু আগেই শরীরে থাবা বসায় এই মারাত্মক সমস্যা! মহিলারা কোন ৮টি লক্ষণ ভুলেও এড়িয়ে যাবেন না?

মেনোপজ বা ঋতুস্রাব পাকাপাকিভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা আমরা সবাই জানি। কিন্তু এর ঠিক আগের কয়েক বছর ধরে মহিলাদের শরীরে হরমোনের মাত্রা পরিবর্তনের কারণে যে প্রক্রিয়া শুরু হয়, তাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘পেরিমেনোপজ’ (Perimenopause)। এই সময়ে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা ওঠানামা করায় শরীর ও মনের ওপর গভীর প্রভাব পড়ে। অনেক সময়ই মহিলারা এই লক্ষণগুলিকে সাধারণ বয়সজনিত সমস্যা বা কাজের চাপ বলে ভুল করেন এবং এড়িয়ে যান। অথচ এই সংকেতগুলি সময়মতো চিনে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
কোন ৮টি লক্ষণে বুঝবেন পেরিমেনোপজ শুরু হয়েছে?
-
ঋতুস্রাবের ধরনে পরিবর্তন: পেরিমেনোপজের এটি অন্যতম প্রধান লক্ষণ। পিরিয়ডের চক্র হঠাৎ ছোট বা বড় হয়ে যেতে পারে, রক্তপাতের পরিমাণেও তারতম্য দেখা যায়।
-
হঠাৎ শরীর গরম হয়ে যাওয়া: যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘হট ফ্ল্যাশ’ (Hot Flash) বলা হয়। কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ মুখ, ঘাড় ও শরীর গরম হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত ঘাম এবং বুক ধড়ফড় করা এর অন্যতম লক্ষণ।
-
ঘুমের মারাত্মক সমস্যা: রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া, ইনসোম্নিয়া বা রাতের ঘামের কারণে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
-
মেজাজের দ্রুত পরিবর্তন: হরমোনের ওঠানামা এবং মানসিক চাপের কারণে হঠাৎ অতিরিক্ত রাগ, মন খারাপ, উদ্বেগ বা অকারণে কান্নার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
-
স্মৃতিশক্তি ও মনোসংযোগে ঘাটতি: কাজে ঠিকমতো মন না বসা, ছোটখাটো জিনিস ভুলে যাওয়া কিংবা গুছিয়ে কাজ করতে সমস্যা হওয়া।
-
যৌনস্বাস্থ্যে পরিবর্তন: ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে যাওয়ার কারণে যোনিপথ শুষ্ক হয়ে যাওয়া এবং মিলনকালে ব্যথা বা অস্বস্তি হতে পারে।
-
ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ: যোনি ও মূত্রনালির টিস্যুতে পরিবর্তনের ফলে বারবার প্রস্রাবের তাগিদ এবং ইউটিআই (UTI)-এর ঝুঁকি বাড়ে।
-
ওজন বৃদ্ধি ও শারীরিক পরিবর্তন: লাইফস্টাইলে বড় কোনো বদল না এলেও হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়া, চুল পাতলা হয়ে যাওয়া বা ত্বকে বয়সের ছাপ পড়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়।
চিকিৎসকের পরামর্শ কেন জরুরি?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই লক্ষণগুলি দেখলেই নিশ্চিত হওয়া যায় না যে এটি পেরিমেনোপজ। থাইরয়েড বা জরায়ুর নানা সমস্যার কারণেও পিরিয়ড অনিমিত হতে পারে। তাই অতিরিক্ত বা অস্বাভাবিক রক্তপাত কিংবা কোনো জটিলতা দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।