ভাষা নিয়ে সংঘাত চরমে! ভোটের ফন্দি নাকি রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা? মুখ্যমন্ত্রীর এক ঘোষণায় নড়েচড়ে বসল মহারাষ্ট্র

মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিসের সাম্প্রতিক একটি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে চরম উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। রাজ্যের অ-মারাঠি অটো ও ট্যাক্সি চালকদের মারাঠি ভাষা শেখার জন্য আরও অতিরিক্ত এক বছর সময় দেওয়ার ঘোষণা করেছে সরকার। এই সিদ্ধান্তের ফলে ভিনরাজ্যের চালকরা স্বস্তি পেলেও, এর তীব্র প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে বিরোধী দল মনসে (MNS) সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল।

সরকারের এই স্বস্তির পদক্ষেপের পরেই মুম্বইয়ের রাস্তায় উল্লাসে ফেটে পড়েন উত্তর ভারতীয় অটোচালকরা। বিজেপি রিকশা ইউনিয়নের আয়োজনে আয়োজিত সেই উদযাপনে উত্তরপ্রদেশী গানের তালে নেচে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস ও বিজেপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান চালকরা। চালকদের বক্তব্য, মারাঠি না বলতে পারার কারণে অতীতে তাঁদের প্রতিনিয়ত হেনস্থার শিকার হতে হতো, তবে এই এক বছরের সময়সীমায় তাঁরা ভালোভাবে ভাষাটি আয়ত্ত করার চেষ্টা করবেন। অন্যদিকে, এই অনুষ্ঠানে বিজেপি কামগার আঘাড়ির সভাপতি অভিজিৎ রানে কড়া ভাষায় এমএনএস-কে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, চালকদের ওপর কোনো হামলা বরদাস্ত করা হবে না।

তবে এই সিদ্ধান্তকে সহজভাবে নেয়নি বিরোধী শিবির। মনসে নেতা অমিত ঠাকরে সরকারের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে প্রশ্ন তুলেছেন, ভাষার জন্য এক বছরের বদলে সরকার চাইলে দশ বা পনেরো বছরের সময়সীমাও দিতে পারত, কিন্তু হঠাৎ এই সুবিধা দেওয়ার নেপথ্যে আসল কারণ কী? তাঁর দাবি, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখেই রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার কারণে মহারাষ্ট্রের নিজস্ব স্বকীয়তা ও মারাঠি ভাষাকে পিছনের সারিতে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে, ভাষার এই আইনি মারপ্যাঁচ আর রাজনৈতিক তরজায় মহারাষ্ট্রের অন্দরে পরিস্থিতি বর্তমানে চরম আকার ধারণ করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *