যুদ্ধের ময়দানে বিরাট বিপ্লব! ভারতের প্রথম ‘ফ্লাইং ড্রোন ক্যারিয়ার’ VAHAK-6 কি শত্রু শিবিরে ত্রাস সৃষ্টি করবে?

আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে আধিপত্য বিস্তারে ঐতিহাসিক এক পদক্ষেপ করল ভারত। দেশের প্রতিরক্ষা শক্তিকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে তৈরি হয়েছে ভারতের প্রথম আদিবাসী বা সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তির মাল্টি-ড্রোন মাদারশিপ সিস্টেম—‘VAHAK-6’ (বাহক-৬)। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL), বেসরকারি সংস্থা এন্ডুরেএয়ার (EndureAir) এবং আইআইটি কানপুরের যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই ‘ফ্লাইং ড্রোন ক্যারিয়ার’ ভারতীয় সেনার শক্তিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট, ২০২৬) প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বা আধুনিক যুদ্ধের ক্ষেত্রে এক বিরাট গেম-চেঞ্জার হতে চলেছে।

কীভাবে কাজ করে এই VAHAK-6 সিস্টেম?

সাধারণত দীর্ঘ দূরত্বে ড্রোনের ব্যাটারি বা শক্তির সীমাবদ্ধতা একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হিসেবে এসেছে বাহক-৬। এটি মূলত একটি দুই স্তরের (Two-tier) আনম্যান্ড এরিয়াল সিস্টেম:

  • সাবল ২০ (SABAL 20): এটি একটি বড় হেলিকপ্টারের মতো মাদারশিপ, যা বেশ কয়েকটি ছোট মাইক্রো-ড্রোনকে নিজের পেটে ভরে শত্রু সীমানার কাছাকাছি বা মিশন জোনে বয়ে নিয়ে যায়। মাঝ আকাশে গিয়ে এটি ড্রোনগুলোকে লঞ্চ করে, ফলে ছোট ড্রোনগুলোর শক্তি অপচয় হয় না।

  • আলাখ (ALAKH) মাইক্রো-ড্রোন: আইআইটি কানপুরের সহযোগিতায় তৈরি এই ক্ষুদ্র ও অত্যন্ত চটপটে ড্রোনগুলো যেকোনো বন্ধ ঘর, গুহা কিংবা সন্ত্রাসবাদীদের গোপন আস্তানায় ঢুকে পড়তে পারে। মাত্র ২x২ ফুট আয়তনের ছোট জানালা বা সুড়ঙ্গ দিয়েও এরা নিমিষে প্রবেশ করতে পারে।

আধুনিক যুদ্ধের নতুন ত্রাস ‘আলাখ’

আলাখ ড্রোনের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো এটি শত্রুর জিপিএস জ্যামিং (GPS Jamming) বা ইলেকট্রনিক ইন্টারফেয়ারেন্স দ্বারা প্রভাবিত হয় না। জিপিএস ছাড়াও নিখুঁতভাবে কাজ করতে সক্ষম এই ড্রোনগুলো। পাশাপাশি:

  • এটি রিয়েল-টাইম এফপিভি (First Person View) ফুটেজ পাঠাতে পারে।

  • এই ড্রোনগুলো ৪শ গ্রাম পর্যন্ত বিস্ফোরক পে লোড বহন করে আত্মঘাতী বা সুসাইড অ্যাটাক চালাতে সক্ষম।

এক মাদারশিপে বহুমুখী কাজ

‘বাহক-৬’ সিস্টেমের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর বহুমুখী কার্যক্ষমতা। একটিমাত্র মাদারশিপ থেকে উৎক্ষেপিত ৬টি ড্রোন একই সময়ে বিভিন্ন ধরনের দায়িত্ব পালন করতে পারে। এর মধ্যে কিছু ড্রোন এলাকা পাহারা দেওয়া বা রিক্যুনাসেন্সের (Reconnaissance) কাজ করে, আবার প্রয়োজন পড়লে বাকিগুলো সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে শত্রুঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিতে পারে।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দেশীয় প্রযুক্তি আগামী দিনে ভারতীয় সেনাকে যে কোনো কঠিন ভূখণ্ড ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে অভাবনীয় কৌশলগত সুবিধা প্রদান করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *