রাখি বাঁধতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামে বন্দি! দিল্লি-NCR-এর রাস্তায় কী এমন ঘটল যে ক্ষোভে ফুঁসছে ভাই-বোনেরা?

উৎসবের আনন্দ আর বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসের মাঝেও রাজধানীর রাস্তায় যেন নেমে এসেছিল স্থবিরতার ছবি। রক্ষাবন্ধনের পবিত্র উৎসবে দিল্লি-NCR-এর রাস্তাঘাট ছিল পুরোপুরি অবরুদ্ধ। হাজার হাজার ভাই-বোন ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ির জ্যামে আটকে থেকে শুধু ক্ষোভই উগরে দেননি, বরং ফুটিয়ে তুলেছেন ভালোবাসার এক অন্যরকম ছবি।
দিল্লি ক্যাণ্টের বাসিন্দা দীপক ঠিক করেছিলেন সকালের নাস্তার আগেই লক্ষ্মীগরে বোনের বাড়ি পৌঁছে যাবেন। কিন্তু উৎসবের চড়া ট্র্যাফিক তাঁকে গন্তব্যে পৌঁছে দিল একেবারে লঞ্চ আর ব্রঞ্চের মাঝামাঝি সময়ে। বৃষ্টির দিনে গুরুগ্রামের মতো জায়গায় ওয়ার্ক ফ্রম হোম পাওয়া গেলেও, উৎসবের দিনে তো আর প্রিয়জনের সঙ্গে দেখা করার ছুটির কোনো সুযোগ নেই! তাই তো হাত ব্যথা হয়ে যাওয়ার জোগাড় হলেও স্টিয়ারিং সামলে রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছিলেন হাজারো মানুষ।
কোথায় কোথায় দেখা গেল এই ভোগান্তি?
বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার জুড়ে দিল্লি, নয়ডা, গুরুগ্রাম এবং গাজিয়াবাদের বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র ট্র্যাফিক জ্যামের সৃষ্টি হয়। দিল্লি-মেরঠ এক্সপ্রেসওয়েতে গাড়ির গতি পুরোপুরি থমকে যায়। লাল কুয়া থেকে দাসনা পর্যন্ত চোখে পড়েছে গাড়ির দীর্ঘ লাইন।
কেন এই পরিস্থিতি? প্রশ্ন তুলছে ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা
বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎসবের দিনে মানুষের যাতায়াত বাড়াটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—এই বিশাল পরিমাণ ট্র্যাফিক সামলানোর মতো পরিকাঠামো কি আমাদের রয়েছে?
দিল্লির প্রাক্তন জয়েন্ট কমিশনার অফ ট্র্যাফিক সত্যেন্দ গার্গ জানান, ২০০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যেও উৎসবের সময় এমন চাপ থাকত। তবে এখন শহর জুড়ে গাড়ির সংখ্যা এবং মানুষের যাতায়াতের পরিধি বহুগুণ বেড়ে গেছে। অথচ রাস্তার আয়তন বা ক্ষমতা সেই অনুপাতে বাড়েনি। দিল্লি আজও অনেকাংশেই ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরশীল, যা এই জ্যামের অন্যতম বড় কারণ।
অন্যদিকে, প্রাক্তন এডিশনাল সিপি দিনেশ কুমার গুপ্তা জানান যে পুলিশ প্রশাসন উৎসবের মরশুমে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করে এবং বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে বিশেষ প্রস্তুতিও নেয়। কিন্তু সামান্য একটি সিগন্যাল خراب হওয়া কিংবা রাস্তায় কোনো গাড়ি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া পুরো রুটকে স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
সমাধান কী?
পরিবহন মন্ত্রী পঙ্কজ সিংয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জুলাই ২০২৬-এর হিসেব অনুযায়ী দিল্লির নিজস্ব জনসংখ্যাই প্রায় ২ কোটি ২৭ লাখ। এর সঙ্গে ফরিদাবাদ, নয়ডা ও গুরুগ্রামের চাপ যোগ হলে রাজধানীর পরিকাঠামোর ওপর চাপ স্বাভাবিকভাবেই আকাশচুম্বী হয়ে দাঁড়ায়।
রোড ট্র্যাফিক বিশেষজ্ঞ নলিনের মতে, কেবল নতুন রাস্তা বানিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এর জন্য পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে। পাশাপাশি, ভুল দিকে গাড়ি চালানো বা নিয়ম ভাঙার মতো সাধারণ নাগরিকদের অসচেতনতাও জ্যামের অন্যতম বড় কারণ।
সবশেষে শত বাধা আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামে আটকে থাকার পরও মানুষের গন্তব্যে পৌঁছানোর জেদ প্রমাণ করেছে—রাস্তা যতই অবরুদ্ধ হোক না কেন, ভাই-বোনের ভালোবাসার টানে দূরত্ব কখনো বাধা হতে পারে না।