“কাট বলার পরেও চুমু থামাননি বিনোদ খন্না!” হাঁটুর বয়সি মাধুরীর সঙ্গে সেই অস্বস্তিকর দৃশ্য নিয়ে আজও কেন তোলপাড় বলিউড?

বলিপাড়ায় এমন কিছু দৃশ্য রয়েছে যা ছবির কাহিনীর চেয়েও বেশি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ১৯৮৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দয়াভান’ (Dayavan) ছবির এমনই এক অন্তরঙ্গ দৃশ্য আজও সিনেপ্রেমীদের আলোচনায় শীর্ষে থাকে। ছবিতে জুটি বেঁধেছিলেন সেকালের জনপ্রিয় তারকা বিনোদ খন্না এবং নবাগত মাধুরী দীক্ষিত। সেই সময়ে বিনোদের বয়স ছিল প্রায় ৪১ বছর, আর মাধুরীর বয়স ছিল মাত্র ২১-এর কাছাকাছি। বয়সের এই ফারাক এবং শুটিংয়ের কিছু অনভিপ্রেত ঘটনা ছবিটিকে বড়সড় বিতর্কের মুখে ফেলেছিল।
ঠিক কী ঘটেছিল শুটিং সেটে? ফিরোজ খানের পরিচালনায় তৈরি এই ছবিতে ‘আজ ফির তুম পে প্যায়ার আয়া হ্যায়’ গানটির একটি ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করার কথা ছিল তাঁদের। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, পরিচালক ‘কাট’ (Cut) বলার পরেও বিনোদ খন্না চুম্বন থামাননি। মাধুরীর জন্য পুরো বিষয়টি অত্যন্ত অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়ায়। পরবর্তীকালে বিনোদ খন্না এই ঘটনার জন্য অভিনেত্রীর কাছে ক্ষমাও চেয়ে নেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকাশ পায়।
বিতর্ক ও ছবি থেকে বাদ দেওয়ার দাবি: ছ ছবি মুক্তির সময় এই চুম্বন দৃশ্যটি নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়। এমনকি ছবিটি থেকে ওই দৃশ্য বাদ দেওয়ার জন্য আইনি নোটিশ পর্যন্ত পাঠানো হয়েছিল। সূত্রের খবর, মাধুরী নিজেও পরিচালক ফিরোজ খানকে অনুরোধ করেছিলেন দৃশ্যটি বাদ দেওয়ার জন্য। কিন্তু পরিচালক তা শোনেননি, বরং দৃশ্যটি ছবিতে রাখার পক্ষেই অটল থাকেন। গুঞ্জন রয়েছে, ওই একটি দৃশ্যের জন্য মাধুরীকে নাকি প্রায় ১ কোটি টাকা পারিশ্রমিক দেওয়া হয়েছিল।
এই ঘটনার পর মাধুরীর মনে গভীর প্রভাব পড়েছিল এবং তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে পর্দায় অন্তরঙ্গ দৃশ্যের ক্ষেত্রে নিজের স্বস্তি ও সীমা কতটা জরুরি। ‘দয়াভান’ ছবির পর আর কখনও বিনোদ খন্নার সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করতে দেখা যায়নি মাধুরীকে। আশির দশকের বলিউডে এই সাহসী দৃশ্য ও তার পেছনের বিতর্ক আজও ভারতীয় সিনেমার অন্যতম আলোচিত অধ্যায় হিসেবে রয়ে গেছে।