“নেপালের হড়পা বানে এখনও নিখোঁজ ৩২০ ভারতীয়!” বিদেশ মন্ত্রকের চাঞ্চল্যকর তথ্যে বাড়ল চরম উদ্বেগ

হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট প্রলয়ংকারী হড়পা বানের (Nepal Flash Flood) তাণ্ডবে নেপাল ও চিন সীমান্তে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে বেড়ে ইতোমধ্যে ৫৫২ ছুঁয়েছে। শুক্রবার নেপালের তরফে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সে দেশে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪৭। পাশাপাশি চিন সীমান্তবর্তী এলাকায় আরও ৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে বেজিং। দুই দেশ মিলিয়ে নিখোঁজের সংখ্যা দেড় হাজার ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে কেবল নেপালেই ৯৭৭ জনের খোঁজ মিলছে না। ২০১৫ সালের বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পর এটিই হিমালয়ের কোলে সবচেয়ে মর্মান্তিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
উদ্ধারকাজ ও ভারতীয়দের বর্তমান পরিস্থিতি: তিব্বত সীমান্তে বিশাল হিমবাহের আকস্মিক ধস এবং বরফ-কাদার ঢলের ফলেই এই নজিরবিহীন বন্যা ঘটেছে। উদ্ধারকাজের তৃতীয় দিনে ১৪ হাজারের বেশি নিরাপত্তা কর্মী নেমে প্রায় ৩ লক্ষ ৭৪ হাজার জনকে সুরক্ষিতভাবে উদ্ধার করেছেন। তবে তিব্বত অংশে কাদার বাঁধ ভেঙে জল প্লাবিত হওয়ায় নেপাল পুলিশ নতুন করে লাল সতর্কতা জারি করেছে।
এদিকে, নেপালে আটকে থাকা ভারতীয়দের উদ্ধারে তৎপর রয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানান যে, কাঠমান্ডু থেকে ২১ জন ভারতীয় নিরাপদে ফিরেছেন এবং ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ৬৩ জন ভারতীয় শ্রমিককে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া চিনা সীমান্তে আটকে থাকা আরও ৯৬ জন ভারতীয় স্থলপথে নেপালে প্রবেশ করেছেন।
তবে স্বজনদের উদ্বেগ বাড়িয়ে বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, নেপালের দুর্গম ও বন্যাদুর্গত এলাকায় এখনও প্রায় ৩২০ জন ভারতীয় নাগরিক এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রায় ১০০ জনের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। কাঠমান্ডুতে ভারতীয় দূতাবাস স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে মিলে নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধাক্কা: এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে নেপালের অন্তত ১৩টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বিদ্যুৎ বাণিজ্যে। দুর্ঘটনার জেরে ভারতে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিমাণ রাতারাতি কমিয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ করে দিয়েছে নেপাল প্রশাসন, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে বাড়তি চিন্তা বাড়িয়েছে।