“আইন সবার জন্য সমান, দরকার হলে আইনি ব্যবস্থা!” বিধানসভার বইকাণ্ডে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি

বিধানসভার লাইব্রেরি থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বই নিয়ে তা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চরম শোরগোল পড়ে গেছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ওঠা এই ‘বই চুরির’ বা বই আটকে রাখার পরোক্ষ অভিযোগের কড়া জবাব দিয়েছেন দলনেত্রী। বৃহস্পতিবার টিএমসিপি’র (TMKOC) প্রতিষ্ঠা দিবসের মঞ্চ থেকে বিরোধীদের উদ্দেশে তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।
ঠিক কী বিতর্ক তৈরি হয়েছে? সম্প্রতি রাজ্যের বর্তমান গ্রন্থাগার বিষয়ক মন্ত্রী গৌরীশংকর ঘোষ দাবি করেন যে, বিধানসভার লাইব্রেরি থেকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট ১৯টি বই (যার মধ্যে ১৮ খণ্ড রবীন্দ্র রচনাবলী ও একটি সঞ্চয়িতা রয়েছে) নিয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও সেই বইগুলি আর লাইব্রেরিতে জমা দেওয়া হয়নি। মন্ত্রীর আরও দাবি, বিধানসভার নির্দিষ্ট দফতর থেকে এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলেও জানানো হয়েছে যে বইগুলি ফেরত দেওয়া হয়নি। বর্তমানে বিধানসভার ওই নির্দিষ্ট কক্ষটি মুখ্যমন্ত্রীর দফতর হিসেবে অন্য কারো হাতে থাকলেও, খাতায়কলমে লাইব্রেরিতে বই জমা না পড়া পর্যন্ত তা ফেরত হিসেবে গণ্য হয় না। এমনকি প্রয়োজনে সাধারণ মানুষের মতো আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মন্ত্রী।
মমতার কড়া চ্যালেঞ্জ: ছাত্র পরিষদের বিশাল সমাবেশ থেকে এই সমস্ত অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত আক্রমণাত্মক সুরে বলেন, ‘‘আমাকে বলছে আমি নাকি বই চুরি করেছি! সাহস থাকে তো প্রমাণ দিন, তা না হলে নাকে খত দিতে হবে।’’ বই পড়ার প্রতি নিজের আজীবন ভালোবাসার কথা তুলে ধরে তিনি স্পষ্ট জানান, তাঁর বাড়িতে এমন কোনো লেখকের বই নেই যা অনুপস্থিত।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বইয়ের এই বিতর্কে বিরোধীরা যখন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সততা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চাইছে, তখন তৃণমূল সুপ্রিমো প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে হুংকার দিয়ে সেই পালটা চাপ বজায় রাখলেন।