“রাখী হাতে হাসিমুখে উঠোনে পা রাখতেই ধসে গেল মাটি!” পুজো দিতে গিয়ে ২০ ফুট গভীরে তলিয়ে গেল যুবতী!

ভাই-বোনের পবিত্র ভালোবাসার উৎসব রক্ষাবন্ধনের দিনেই উত্তরপ্রদেশের কানপুর থেকে এল এক হৃদয়বিদারক খবর। উৎসবের আনন্দের মাঝে ঘরের উঠোন হঠাৎ ধসে গিয়ে ২০ থেকে ২২ ফুট গভীর গর্তে পড়ে এক ১৮ বছর বয়সি তরুণীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় গোটা এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

আসলে ঠিক কী ঘটেছিল? পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে কানপুরের মহারাজপুর থানার অন্তর্গত পুরवामीर গ্রামে। মৃত তরুণীর নাম যশী সবিতা (১৮)। রাখি উৎসব উপলক্ষে সেদিন বাড়িতে আনন্দের পরিবেশ ছিল। পুজো দেওয়ার জন্য হাতের থালা নিয়ে যশী বাড়ির উঠোনে আসেন। পরিবারের সদস্যদের মতে, তিনি তখন মা-বাবাকে ডাকতে যাচ্ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই চোখের পলকে উঠোনের একাংশের মাটি হুড়মুড় করে ধসে পড়ে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই যশী সোজা ২০-২২ ফুট গভীর এক গর্তের মধ্যে তলিয়ে যান।

দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে উদ্ধারকাজ: হঠাৎ এই বিপদের পর পরিবারের চিৎকার-চেঁচামেচিতে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। খবর দেওয়া হয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে। গর্তটি অত্যন্ত গভীর হওয়ায় স্থানীয়দের পক্ষে উদ্ধারকাজ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় এনডিআরএফ (NDRF), এসডিআরএফ (SDRF) এবং ফায়ার ব্রিগেডের বিশেষ দল। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মাটি খুঁড়ে দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর যীশুকে গর্ত থেকে উদ্ধার করা হয়। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

কেন ধসল উঠোন? পুরনো বোরিংয়ের যোগসূত্র? পরিবার সূত্রে খবর, প্রায় তিন বছর আগে ওই বাড়ির উঠোনে বোরিং করার চেষ্টা হয়েছিল, যা পরে সফল না হওয়ায় অন্য জায়গায় করা হয়। পরিবারের প্রাথমিক আশঙ্কা, ওই পুরনো এবং অব্যবহৃত বোরিংয়ের অংশটি ভেতর থেকে সম্পূর্ণ ফাঁপা ও দুর্বল হয়ে পড়েছিল। সম্প্রতি ভারী বৃষ্টির জেরে মাটির নিচের সেই দুর্বল অংশটি আরও বসে যায় এবং এই ভয়ংকর দুর্ঘটনা ঘটে। উৎসবের দিনে এমন মর্মান্তিক ঘটনায় মৃতার পরিবারে কান্নার রোল উঠেছে এবং গোটা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *