“দু’বছর পর ফের শহরে ছুটছে ‘জয়-লোপা এক্সপ্রেস’! ২৯ বছরের সুরের সম্পর্ক নিয়ে কোন বিরাট চমক আসছে?”

গানের সফরে ফের ছুটতে চলেছে ‘জয়-লোপা এক্সপ্রেস’। প্রায় দু’বছর আগে দর্শকদের মনে গভীর দাগ কেটেছিল এই বিশেষ সঙ্গীত সন্ধ্যার প্রথম পর্ব। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আবারও কলকাতার মঞ্চে ফিরছে এই জনপ্রিয় সঙ্গীতযাত্রা। আগামী ২৯ আগস্ট, জি. ডি. বিড়লা সভাঘরে সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টা থেকে শুরু হতে চলেছে ‘জয়-লোপা এক্সপ্রেস’-এর দ্বিতীয় সিজন।
কী এই ‘জয়-লোপা এক্সপ্রেস’? নাম যখন ‘এক্সপ্রেস’, তখন এই গানের সফরও বেশ রোমাঞ্চকর। একের পর এক সুরের স্টেশন পেরিয়ে এগিয়ে চলবে এই বিশেষ সঙ্গীতযাত্রা। প্রথম পর্বের সাফল্যের পর দেশের বিভিন্ন শহর ঘুরে এবার দ্বিতীয় সিজন নিয়ে কলকাতায় ফিরছেন প্রখ্যাত শিল্পী জয় সরকার ও লোপামুদ্রা মিত্র। এই অনুষ্ঠানে শ্রোতারা উপভোগ করতে পারবেন হরেক রকমের গান, সুরের বৈচিত্র্য এবং দুই শিল্পীর দীর্ঘ তিন দশকের সম্পর্কের টুকরো টুকরো সোনালী মুহূর্ত।
২৯ বছরের বন্ধুত্বের সুরের সেতু জয় সরকার ও লোপামুদ্রা মিত্রের পথচলা দীর্ঘদিনের। প্রায় ২৯ বছর ধরে তাঁরা সঙ্গীতের জগতের পরিচিত মুখ। কেরিয়ারের শুরুর দিকে লোপামুদ্রার গানে নিয়মিত গিটারিস্ট হিসেবে সঙ্গত করতেন জয় সরকার। পরবর্তী সময়ে জয় ব্যস্ত হয়ে পড়েন নিজের সুরকার জীবন নিয়ে, যার ফলে একসঙ্গে মঞ্চে গান গাওয়ার সুযোগ কিছুটা কমে যায়। কিন্তু তাঁদের বন্ধুত্ব এবং সুরের যোগসূত্র কখনও ছিন্ন হয়নি।
এই জায়গা থেকেই জন্ম নেয় ‘জয়-লোপা এক্সপ্রেস’-এর ভাবনা। লোপামুদ্রার মতে, তাঁদের নিজস্ব সঙ্গীতজীবন আলাদা পথে চললেও তাঁদের মধ্যে সুরের এক অদৃশ্য সেতু সবসময় বজায় রয়েছে। এই কনসার্টে জয় নিজের সুর করা গান শোনাবেন, পাশাপাশি লোপামুদ্রাও গাইবেন জয়ের সুরে তৈরি জনপ্রিয় গানগুলি। সঙ্গে থাকবেন বেশ কয়েকজন অতিথি যন্ত্রী। অর্থাৎ, এক মঞ্চে দুই শিল্পীর দুই ‘ইঞ্জিন’ মিলে ছুটবে এই সুরের এক্সপ্রেস।
পুরনো স্মৃতির রোমন্থন জয় সরকারের সুরকার হয়ে ওঠার নেপথ্যেও রয়েছে লোপামুদ্রার গুরুত্বপূর্ণ অবদান। লোপামুদ্রার হাত ধরেই তাঁর সুরকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল। সুরকার জীবনের দীর্ঘ ২৫ বছর পার করে এসে পুরোনো সেই মঞ্চসঙ্গীতের দিনগুলোতে ফিরে যাচ্ছেন জয়ও। সেই হারিয়ে যাওয়া মঞ্চের আবহ, পুরোনো বন্ধুত্ব এবং নতুন সুরের মেলবন্ধনেই সেজে উঠেছে ‘জয়-লোপা এক্সপ্রেস’-এর দ্বিতীয় সিজন। এটি কেবল একটি গান-বাজনার অনুষ্ঠান নয়, বরং প্রায় তিন দশকের এক সুমধুর সঙ্গীত-সম্পর্ককে উদ্যাপনের অনন্য এক আয়োজন।