“২১ জুলাই থামিয়ে দিয়েছিলেন, আজ কী বললেন মমতা?” কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বড় হুঙ্কারে শোরগোল!

২১ জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশের মঞ্চে তাঁর লম্বা বক্তৃতা নিয়ে তৈরি হওয়া ক্ষোভ ও তিক্ততা কি তবে বরফ গলল? শুক্রবার ক্যাথিড্রাল রোডে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) প্রতিষ্ঠা দিবসের সমাবেশে একেবারে অন্য ছবি ধরা পড়ল। সেদিন সভা থামিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও, এদিন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজেই বক্তব্য রাখার জন্য এগিয়ে দিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, বক্তব্য শুরুর আগে লড়াকু মেজাজের এই সাংসদের প্রশংসাও শোনা গেল তাঁর মুখে।
কল্যাণের বিস্ফোরক হুংকার ও চ্যালেঞ্জ এদিন মঞ্চে উঠে নিজের চেনা মেজাজে আক্রমণ শানান কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, ভয় পাওয়ার পাত্র তাঁরা নন। যতবার জেলে ঢোকানো হোক না কেন, জেল থেকে বেরিয়ে এসে তাঁরা ফের তৃণমূল কংগ্রেসই করবেন। পাশাপাশি, দল ছেড়ে অন্য শিবিরে যাওয়া সাংসদদের নিশানা করে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, “আমি কথা দিয়ে যাচ্ছি, এক বছরের মধ্যে ওই কুড়ি জন সাংসদের পদ খারিজ করে দেখাবোই। আর এক বছরের মধ্যে ওই কুড়িটা আসনে পুনর্নির্বাচনও হবে।”
শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা বিরোধী শিবিরকে আক্রমণ করে শুভেন্দু অধিকারীর নাম না করে কল্যাণ বলেন, মুখ্যমন্ত্রী একজন বিরোধী দলনেতা তৈরি করেছিলেন, কিন্তু সেই পদকেও তিনি অস্থায়ী করে দিয়েছেন। শুভেন্দু অধিকারীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “সময় ঘনিয়ে এসেছে, পারলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটকে দেখান।” এছাড়া ভবানীপুর মামলার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আনার চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দেন তিনি।
উল্লেখ্য, এদিন সমাবেশ চলাকালীন রাস্তার যানজট ও গাড়ি ঢুকে পড়ার কারণে কিছুক্ষণ সভা বন্ধ রাখতে হয়েছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর অসমাপ্ত বক্তব্য চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন, যা রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।