স্কুলে ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির জয়জয়কার! শিশুদের বায়োমেট্রিক ডেটা সুরক্ষায় বড় শঙ্কার মেঘ

দেশজুড়ে স্কুল ও কলেজ স্তরে ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি বা হাজিরা নিশ্চিত করার কাজে ‘ফেসিয়াল রিকগনিশন’ বা মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ প্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলেছে। কর্ণাটক, রাজস্থান, আসাম, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তেলেঙ্গানার মতো একাধিক রাজ্যে এই ডিজিটাল ব্যবস্থা বিভিন্ন মডেলে রূপায়ন করা হচ্ছে। যদিও এই প্রযুক্তির মাধ্যমে উপস্থিতি নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া অনেক দ্রুত ও নির্ভুল হয়েছে, তবুও অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের সংবেদনশীল বায়োমেট্রিক ডেটার গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলছেন তথ্যপ্রযুক্তি ও শিশু সুরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞমহলের প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো, পাসওয়ার্ড বা পিন কোড ফাঁস হয়ে গেলে তা সহজেই পরিবর্তন করা সম্ভব, কিন্তু মানুষের মুখের বায়োমেট্রিক ডেটা একবার চুরি বা বেহাত হয়ে গেলে তা কোনোভাবেই আর বদলানো যায় না। ফলে শিশুদের এই ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখার জন্য কঠোর ও সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো থাকা অত্যন্ত জরুরি।

রাজ্যে রাজ্যে বাড়ছে ডিজিটাল হাজিরা
শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই প্রযুক্তির বিস্তার ঘটছে। কর্ণাটকের সরকারি ও অনুদানপ্রাপ্ত প্রাক-বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ এবং বিদ্যালয়গুলোতে মুখ শনাক্তকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে ই-উপস্থিতি নথিভুক্ত করার কাজ চলছে। রাজস্থান সরকারও তাদের সরকারি স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলোতে এই বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, যার মূল লক্ষ্য কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনা ও প্রশাসনিক নথি ডিজিটাল করা।

অন্যদিকে, আসামে ২০২২ সাল থেকেই ‘শিক্ষা সেতু’ প্রকল্পের আওতায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের হাজিরা নিশ্চিত করতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। একইভাবে তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তেলেঙ্গানার মতো রাজ্যগুলোর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও ধাপে ধাপে এই মুখ শনাক্তকরণ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

সুবিধার আড়ালে নিরাপত্তার বড় ঝুঁকি
প্রশাসনের মতে, ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির ব্যবহার হাজিরা নেওয়ার সময় বাঁচায় এবং ভুয়া বা প্রক্সি উপস্থিতি রোধ করতে সাহায্য করে। ডিজিটাল রেকর্ডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও অন্যান্য অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম নিখুঁতভাবে তদারকি করা যায়।

তবে সাধারণ আইডি কার্ড বা পাসওয়ার্ডের সঙ্গে বায়োমেট্রিক ডেটার মৌলিক ফারাক রয়েছে। এটি সরাসরি মানুষের শারীরিক বা জৈবিক পরিচয়ের ওপর নির্ভরশীল। তাই একবার এই ডেটা সাইবার অপরাধীদের হাতে চলে গেলে তা ব্যবহারকারীর জন্য স্থায়ী ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ডেটা সুরক্ষা ও গোপনীয়তাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ
শিক্ষার্থীদের মুখের এই তথ্য ঠিক কোথায় সংরক্ষিত হচ্ছে, কারা বা কোন কর্তৃপক্ষ এই ডেটা অ্যাক্সেস করতে পারছে, কতদিন পর্যন্ত এটি সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন শেষে তা স্থায়ীভাবে মুছে ফেলা হচ্ছে কি না—এই প্রশ্নগুলোর কোনো স্পষ্ট উত্তর এখনও মেলেনি। প্রযুক্তি শিক্ষার মান উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে, তবে তার পাশাপাশি শিশুদের গোপনীয়তা এবং সাইবার সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *