খুশিমতো মিছিলে যোগ দিলেই কড়া শাস্তি! সরকারি নিয়মের বেড়াজালে ফেঁসে সাসপেন্ড দুই স্কুল শিক্ষক

কর্নাটকের যাদগির জেলায় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) একটি পদযাত্রায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে দুজন সরকারি স্কুল শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে শিক্ষা বিভাগ। সরকারি কর্মচারীদের জন্য এই ধরনের রাজনৈতিক বা সংশ্লিষ্ট সংগঠনের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা সম্পূর্ণ নিয়মবিরুদ্ধ হওয়ায় এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

গত ২০শে আগস্ট যাদগিরের উপ-পরিচালক চন্নবাসাপ্পা মুধোল এই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বরখাস্তের আদেশ জারি করেন। অভিযুক্ত শিক্ষকদের একজন হলেন হুনাসাগির সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক গুরুরাজ জোশী এবং অন্যজন সুরপুর তালুকের কুপ্পি গ্রামের সরকারি নিম্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আন্না সাহেব দেশমুখ।

কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগ ও বিভাগীয় পদক্ষেপ
শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, মিছিলে অংশগ্রহণ করা একাধারে যেমন কর্তব্যে অবহেলা, তেমনই তা কর্নাটক সিভিল সার্ভিস (KCS) বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তদন্তে উঠে এসেছে যে, শিক্ষক গুরুরাজ জোশী গত ১২ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে বিজয়াপুরা জেলার তালিকোটিতে একটি পথ মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন এবং সংবাদপত্রে তাঁর সেই ছবি প্রকাশিত হয়েছিল।

ওই আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, “আরএসএস-এর ‘পথ সঞ্চালন’ মিছিলে আপনার অংশগ্রহণ আপাতদৃষ্টিতে কর্তব্যে অবহেলা এবং কেসিএস বিধি ৩(১), ৩(২), ৩(৩), ৫(১) এবং ৭-এর পরিপন্থী।” উল্লেখ্য, আম্বেদকর স্বাভিমানী সেনার জেলা সভাপতির দায়ের করা একটি অভিযোগের ভিত্তিতে বিভাগটি চলতি বছরের মার্চ মাসে জোশীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছিল।

শিক্ষকদের সাফাই ও প্রশাসনের কড়া বার্তা
কারণ দর্শানোর জবাবে অভিযুক্ত শিক্ষক গুরুরাজ জোশী দাবি করেছিলেন যে, অনুষ্ঠানটি রবিবার কর্মঘণ্টার পরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং এটি একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল। তবে শিক্ষা বিভাগ সেই যুক্তি খারিজ করে দেয়। তদন্ত চলাকালীন দুই শিক্ষককেই আপাতত সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তের এই মেয়াদে তাঁরা নিয়ম অনুযায়ী জীবনধারণ ভাতা পাবেন, তবে পূর্বানুমতি ছাড়া সদর দপ্তর ত্যাগ করতে পারবেন না।

প্রশাসনের জারি করা আদেশে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, সরকারি কর্মচারীরা কোনো রাজনৈতিক দল বা রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সদস্য হতে পারবেন না, কিংবা সেগুলির কোনো কার্যক্রমেও অংশ নিতে পারবেন না। শিক্ষকদের সমাজ ও শিক্ষা ব্যবস্থার আদর্শ হিসেবে গণ্য করা হয়, তাই তাঁদের শৃঙ্খলা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *