‘স্বামীজি মিষ্টি আনতে গেল তো কী হয়েছে, আমার প্রেমিক তো বাইক নিয়ে তৈরিই ছিল!’ রাখির দিনে চাঞ্চল্যকর কাণ্ড

বিহারের মধেপুরা থেকে এক অবিশ্বাস্য ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। বিয়ের মাত্র ১৯ দিন পর রাখিবন্ধনের দিনে স্বামীর হাত থেকে এড়াতে সুকৌশলে প্ল্যান কষে পালিয়ে যান এক নববিবাহিতা। স্বামীকে মিষ্টি আনতে পাঠিয়ে সোজা প্রেমিকের বাইকে চড়ে চম্পট দেন ওই বধূ। তবে শেষরক্ষা হয়নি, পুলিশের মাত্র দুই ঘণ্টার ঝোড়ো অভিযানে উদ্ধার হয়েছে গৃহবধূ এবং গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁর প্রেমিককে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভাগলপুর জেলার চক্রমীর বাসিন্দা পিন্টু কুমারের সঙ্গে গত ৭ আগস্ট পূর্ণিয়ার সুখসেনা গ্রামের বাসিন্দা তারাবতী কুমারীর বিয়ে হয়। বিয়ের ১৯ দিন পর রাখিবন্ধনের উৎসবে স্ত্রীকে তাঁর বাপের বাড়ি পৌঁছে দিতে বাইক নিয়ে রওনা দিয়েছিলেন পিন্টু। পথিমধ্যে পূর্ণিয়া-মধেপুরা সীমান্তের চৌসা বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছানোর পর তারাবতী তাঁর স্বামীকে রাখির মিষ্টি কেনার বায়না করেন। স্ত্রীর আবদার মেটাতে পিন্টু যখন বাসস্ট্যান্ডের কাছেই মিষ্টি কিনতে যান, ঠিক সেই সুযোগটিই কাজে লাগান তারাবতী।

মিষ্টি হাতে পিন্টু ফিরে এসে দেখেন, বাইকের পাশে স্ত্রী নেই। আশেপাশের এলাকায় হন্যে হয়ে খুঁজেও তাঁর কোনো হদিশ মেলেনি। এরপর শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে খবর দেওয়া হলে তারাও এসে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত কোনো উপায় না পেয়ে মধ্যরাতে ১১২ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সাহায্য চায় পরিবার।

খবর পাওয়ার পরই ময়দানে নামে পুলিশ। মোবাইল টাওয়ারের লোকেশন এবং অন্যান্য টেকনিক্যাল সূত্রের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেন ডায়াল-১১২-এর কর্মীরা। তদন্তে নেমে পুলিশ সোজা পারবট্টা থানা এলাকার বরওয়াতে অভিযুক্ত প্রেমিক উৎকর্ষ কুমারের বাড়িতে হানা দেয়। উৎকর্ষকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই গোটা রহস্য ফাঁস হয়ে যায়। তিনি জানান, তারাবতীকে রাঘোপুর বাহতারা এলাকায় তাঁর মায়ের বাড়িতে লুকিয়ে রাখা হয়েছে।

এরপর পুলিশের আরেকটি দল রাত প্রায় ১২টা নাগাদ রাঘোপুরে হানা দিয়ে নিখোঁজ গৃহবধূকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্ত প্রেমিক উৎকর্ষ কুমারকেও। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বিয়ের আগে থেকেই তারাবতীর সঙ্গে উৎকর্ষের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং পরিবারের অমতে বিয়ে হওয়ায় সুযোগ পেতেই সে প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়ে যায়। বর্তমানে উদ্ধার হওয়া গৃহবধূ এবং অভিযুক্ত প্রেমিককে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য পারবট্টা থানার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বিয়ের ঠিক পনেরো-কুড়ি দিনের মাথায় এই আকস্মিক ঘটনায় গোটা এলাকায় শোরগোল পড়ে গেছে।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *