হিমবাহ ভাঙার ক্ষত না শুকাতেই ফের মহাপ্রলয়ের আশঙ্কা! নেপালে হু হু করে বাড়ছে জল, হুশিয়ারি জারি প্রশাসনের

নেপালে আবারও নতুন করে হড়পা বানের চরম আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উজানে বাঁধের মতো আটকে থাকা একটি হ্রদের জল উপচে পড়তে শুরু করার খবর পাওয়ার পর বন্যাদুর্গত রাসুয়া জেলায় হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধারকাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্রুত উঁচু জায়গায় সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। এর মাঝেই চিনের রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, তিব্বত-সংলগ্ন চিনের সিচুয়ান প্রদেশে ৫.১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। নেপাল ও তিব্বতের কিছু অংশে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার রেশ কাটতে না কাটতেই এই ভূমিকম্প পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ঝুঁকিতে ধুন্ডে বাজার, চলছে মাইকিং
নুয়াকোট জেলার ধুন্ডে বাজার ও সংলগ্ন এলাকায় নতুন করে আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নদীর তীরবর্তী এলাকা থেকে বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ ও প্রশাসন। স্থানীয় প্রশাসনের আশঙ্কা, উজান থেকে বিপুল পরিমাণ জল নেমে এলে আগামী ২০ থেকে ২৫ মিনিটের মধ্যেই ধুন্ডে বাজার এলাকায় বন্যার জল পৌঁছে যেতে পারে। ফলে কোনো ঝুঁকি না নিয়ে বাসিন্দাদের বাড়িঘর খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দল মাইকিং করে নদীর কাছাকাছি থাকা মানুষজনকে দ্রুত সরে যাওয়ার আর্জি জানাচ্ছে। পুলিশের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, তিব্বত অংশে থাকা জলাধারের বাঁধ আবারও ভেঙে গেছে এবং জলের স্তর নতুন করে বেড়েছে। তাই উদ্ধারকর্মী ও সাধারণ মানুষকে অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।
বিপজ্জনক হয়ে উঠছে প্রাকৃতিক হ্রদ
স্থানীয় প্রশাসনের মতে, সম্ভাব্য এই বন্যা আগের তুলনায় বহু গুণে ভয়াবহ হতে পারে। রাসুয়া জেলার শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তা নরেন্দ্র পরিয়ার জানিয়েছেন, ওই এলাকায় আকস্মিক বন্যা আঘাত হানার দুদিন পর তাঁরা জানতে পেরেছেন একটি হ্রদের পাড় ভেঙে গেছে। নদীতে জলের স্তর বাড়লেও বর্তমানে জলের উচ্চতা ঠিক কতটা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এদিকে চিনও তিব্বতে নতুন করে বন্যার উচ্চ ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে উদ্ধারকাজ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। সেখানে ভয়াবহ ভূমিধসের দুদিন পরও শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। চিনের জলসম্পদ মন্ত্রক জানিয়েছে, নেপালে ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর মিলনস্থলের কাছে তৈরি হওয়া একটি বড় আকারের প্রাকৃতিক বাঁধের হ্রদ ইতিমধ্যেই উপচে পড়তে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল নাগাদ হ্রদটির আয়তন আনুমানিক ২০ লাখ ঘনমিটারে পৌঁছয়।