গ্রীষ্মের গরমে ঝরে পড়া পাতা দিচ্ছে ভয়ংকর অশনি সংকেত! জানেন কি বিরাট বিপদে পড়েছে শহরের গাছপালা?

ইউরোপে লাফিয়ে বাড়ছে উষ্ণতা! তীব্র গরমে মারাত্মক বিপদের মুখে শহরের গাছপালা, বাঁচাতে তৎপর গবেষকরা
বিশ্বজুড়ে বাড়ছে জলবায়ু সংকট ও অসহ্য গরম। ইউরোপের বিভিন্ন শহরে তাপমাত্রার পারদ চড়ার সঙ্গে সঙ্গেই মারাত্মক বিপদের মুখে পড়েছে শহুরে গাছপালা। গ্রীষ্মের এই সময়টায় ঝরে পড়া পাতা দেখে অনেকেই হয়তো শরতের আমেজ খুঁজছেন, কিন্তু বিজ্ঞানীরা একে দেখছেন এক ভয়ংকর ‘অশনি সংকেত’ হিসেবে। কারণ, বড় পাতাওয়ালা গাছগুলো একদিকে যেমন শহরকে বসবাসের উপযোগী রাখে, রোদ আটকায়, দূষণ কমায় এবং কার্বন জমা রাখে, তেমনই তীব্র গরমে মানুষের শরীর ও মন ভালো রাখতে প্রকাণ্ড শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের মতো কাজ করে। গাছের ছায়ার নিচে তাপমাত্রা আশপাশের তুলনায় তিন ডিগ্রি পর্যন্ত কম থাকতে পারে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের জেরে সেই রক্ষাকবচ আজ নিজেই হুমকির মুখে।
গাছ বাঁচানোর নতুন কৌশল: যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক নিনা বাসুক সতর্ক করে জানিয়েছেন যে গাছ নষ্ট হয়ে গেলে এই সমস্ত সুযোগ-সুবিধাও চিরতরে হারিয়ে যাবে। তাই ভবিষ্যতে জলবায়ু উপযোগী শহুরে বন তৈরি ও পুরোনো গাছ বাঁচানোর ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সুইডিশ ইউনিভার্সিটির গবেষক হেনরিক শোমান জানাচ্ছেন, ২০ মিটার পরিধির একটি পুরোনো গাছের সমতুল্য উপকারিতা পেতে হলে প্রায় ৪০০টি নতুন চারা লাগাতে হয়। অথচ একটি গাছ পূর্ণবয়স্ক হয়ে তার পুরো সুফল দিতে ৪০ থেকে ৫০ বছর পর্যন্ত সময় নেয়। তাই নতুন গাছ লাগানোর পাশাপাশি পুরোনো গাছগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
গাছে জল দেওয়ার সঠিক নিয়ম: তীব্র খরায় একটি সুস্থ গাছের প্রতিদিন অন্তত ১০ থেকে ১৫ লিটার এবং পূর্ণবয়স্ক বড় গাছের তার চার গুণ পর্যন্ত জলের প্রয়োজন হয়। তবে মাটির ওপরের স্তরে অল্প অল্প করে জল দিলে তা বাষ্প হয়ে উড়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, অল্প সময়ে একবারে বেশি করে জল দেওয়া উচিত, যাতে তা মাটির গভীরে পৌঁছাতে পারে। এছাড়া গাছের চারপাশে ছোট গর্ত করে বা সেচ-ব্যাস ও কুশন ব্যবহার করে ধীরে ধীরে মাটি ভেজানোর পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে।
শহরের জন্য গাছ বাছাইয়ের বদল: অতীতে কেবল সৌন্দর্য বা নান্দনিকতার কথা ভেবে শহরের গাছ বাছা হলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিজ্ঞানীরা জোর দিচ্ছেন গাছের খরা সহ্য করার ক্ষমতা এবং প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের ওপর। ক্রমাগত উত্তপ্ত হয়ে ওঠা পৃথিবীতে শহরের গাছগুলো এখন বিশাল চাপের মুখে রয়েছে, আর তাই তাদের টিকিয়ে রাখতে বিশ্বজুড়েই চলছে নানামুখী গবেষণা ও বিশেষ পদক্ষেপ।