মুহূর্তের মধ্যে চোখের সামনে সব শেষ! নেপালের প্রলয়ংকরী বিপর্যয়ে নিখোঁজ বাংলার বহু মানুষ, মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী!

প্রকৃতির রুদ্ররোষে বিধ্বস্ত নেপাল! মানস সরোবর যাত্রায় গিয়ে নিখোঁজ বাংলার ৩২ জন পর্যটক, চরম উদ্বেগে পরিবার

প্রলয়ংকরী হড়পা বান ও আকস্মিক ভূমিধসে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপাল। পাহাড়ি নদীর জলচ্ছ্বাসে ভেসে গেছে একাধিক জনপদ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা। এই ভয়ংকর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে চরম বিপদের মুখে পড়েছেন বেড়াতে যাওয়া বহু পর্যটক। সরকারি ও বেসরকারি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নেপালে ঘুরতে যাওয়া বাংলার অন্তত ৩২ জন পর্যটকের এখনও পর্যন্ত কোনো খোঁজ মিলছে না। নিখোঁজ পর্যটকদের পরিণিত কী হয়েছে, তা নিয়ে তাঁদের পরিবার এবং গোটা রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে চরম উৎকণ্ঠা।

কীভাবে ঘটেছিল এই বিপর্যয়?

জানা গিয়েছে, গত ২১ অগস্ট একটি বেসরকারি ভ্রমণ সংস্থার মাধ্যমে কলকাতার ওই পর্যটকদের দলটি নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। তাঁদের মূল গন্তব্য ছিল নেপাল-তিব্ত সীমান্ত এবং কৈলাস-মানসরোবর। গত বুধবার তাঁদের সীমান্ত পার হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই মঙ্গলবার নেপাল সীমান্তে পাহাড়ি নদী উপচে হড়পা বান নেমে আসে। ভ্রমণ সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিপর্যয়ের ঠিক আগমুহূর্ত পর্যন্ত পর্যটকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা সম্ভব হলেও, বানের জল আছড়ে পড়ার পর থেকেই মোবাইল নেটওয়ার্ক ও যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। পর্যটকদের থাকার নির্দিষ্ট শেল্টারটিও জলের তোড়ে ভেসে গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রশাসনের তৎপরতা ও হেল্পলাইন চালু:

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ইতিমধ্যেই আসরে নেমেছে রাজ্য প্রশাসন। নবান্ন ও লালবাজারের তরফে গোটা পরিস্থিতির ওপর কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। নেপাল প্রশাসন ও ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রেখে উদ্ধারকাজে গতি আনার চেষ্টা চলছে। নিখোঁজ পর্যটকদের পরিবারকে দ্রুত তথ্য ও সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ কন্ট্রোল রুম ও হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। চন্দননগর, শিলিগুড়ি, দুর্গাপুর, ডায়মন্ডহারবার, বসিরহাট সহ বিভিন্ন এলাকার পর্যটকরা এই বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। যতদিন না পর্যন্ত সমস্ত পর্যটক নিরাপদে ফিরে আসছেন, ততদিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *