সেনার পোশাক ছাড়লেও থামেনি দেশসেবা! জঙ্গলমহলের ১৫০টির বেশি যুবক-যুবতীর জীবন বদলে দিলেন এই প্রাক্তন সৈনিক!

সেনার পোশাক ছেড়েছেন, ছাড়েননি দেশসেবা! জঙ্গলমহলের ছেলেমেয়েদের চাকরির দিশা দেখিয়ে জাতীয় সম্মান পেলেন প্রাক্তন সৈনিক

একদিন যিনি দেশের সীমান্ত পাহারা দিয়েছেন, আজ তিনি জঙ্গলমহলের তরুণ-তরুণীদের স্বপ্নগুলো পাহারা দিচ্ছেন। সেনাবাহিনী থেকে অবসরের পরও থেমে থাকেনি তাঁর লড়াই। বরং অভাবকে জয় করে পুরুলিয়ার প্রান্তিক এলাকার ছেলে-মেয়েদের সরকারি চাকরির পথ মসৃণ করতে একাই বিপ্লব ঘটিয়ে চলেছেন এক প্রাক্তন সেনাকর্মী—অনুপকুমার মাহাতো। তাঁর এই নিঃস্বার্থ উদ্যোগে ইতিমধ্যেই ১৫০ জনেরও বেশি যুবক-যুবতী সরকারি চাকরি পেয়ে নিজেদের ভাগ্য বদলে ফেলেছেন।

দরিদ্র পরিবার থেকে সেনার পোশাক ও সংগ্রামের পথ: পুরুলিয়ার কেতিকার প্রত্যন্ত গ্রামের এক সাধারণ কৃষক পরিবারে জন্ম অনুপের। চরম দারিদ্র এবং অভাবের সঙ্গে লড়াই করেই কেটেছে তাঁর শৈশব। পরিবারের বড় ছেলে হিসেবে কাঁধে দায়িত্ব নিয়ে মাত্র ১৬ বছর বয়সে, ২০০৪ সালে তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। কাশ্মীরের মতো দুর্গম এলাকায় দেশের সুরক্ষায় দীর্ঘ ১৬ বছর সেবা দেওয়ার পর ৩২ বছর বয়সে অবসর নেন তিনি। বর্তমানে বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত থাকলেও সমাজ ও দেশের প্রতি তাঁর দায়িত্ববোধ এক বিন্দুও কমেনি।

বিনামূল্যে ফিজিক্যাল ট্রেনিং ও দুর্দান্ত সাফল্য: পুরুলিয়ার ছেলে-মেয়েদের ডিফেন্সে কম দেখা যাওয়ার আক্ষেপ থেকেই ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ফিজিক্যাল ফিটনেস ট্রেনিং দেওয়া শুরু করেন অনুপ। প্রতিদিন সকালে পুরুলিয়া শহরের জেকে কলেজ গ্রাউন্ডে তিনি এই প্রশিক্ষণ দেন। তাঁর হাত ধরে প্রথম ব্যাচের ১৬ জন ‘অগ্নিবীর’ হওয়ার পাশাপাশি রাজ্য পুলিশ, আধা সামরিক বাহিনী, রেল ও নেভিতে চাকরি পেয়েছেন। আসানসোল বা অন্যান্য দূরদূরান্ত থেকেও বহু শিক্ষার্থী এসে তাঁর কাছে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

সেনাপ্রধানের হাত থেকে জাতীয় সম্মান: সমাজ ও দেশের অগ্রগতির পথে অসাধারণ অবদানের জন্য সম্প্রতি ভারতীয় সেনাবাহিনীর মর্যাদাপূর্ণ ‘যোদ্ধা সেবা সম্মান ২০২৬’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন অনুপকুমার মাহাতো। দেশজুড়ে মাত্র তিনজন প্রাক্তন সেনাকর্মী এই সম্মান পেয়েছেন, যার মধ্যে জায়গা করে নিয়েছেন এই বাঙালি। সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরজ শেঠের হাত থেকে এই সম্মান গ্রহণ করে তিনি প্রমাণ করেছেন, ইচ্ছে থাকলে প্রতিকূলতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কীভাবে সমাজকে বদলে দেওয়া যায়। জঙ্গলমহলের তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনি আজ এক জ্যান্ত অনুপ্রেরণা।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *