ইউনিভার্সিটিতে চরম আতঙ্ক! শিক্ষিকাকে হেনস্থা, ভেক ইমেল খুলে অশ্লীল ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তারির মুখে ছাত্র!

প্রত্যাখ্যান করায় তেজাब হামলার হুমকি ও অশ্লীল ছবি ভাইরাল! ছাত্রের সাইবার সন্ত্রাসে অতিষ্ঠ মহিলা অধ্যাপক, উত্তাল মোহািল
পাঞ্জাবের মোহালির একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে গেল এক নক্কারজনক ঘটনা। এক শিক্ষিকাকে দীর্ঘদিন ধরে উত্যক্ত করা, প্রেমের প্রস্তাব দেওয়া এবং তাতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে তেজাব নিক্ষেপ করে মুখ পুড়িয়ে দেওয়ার মতো ভয়াবহ হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, প্রতিশোধ নিতে ওই ছাত্র শিক্ষিকার ফেক বা জাল ইমেল আইডি বানিয়ে তাঁর আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং অন্যান্য ছাত্রদের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় সাইবার সেল ও স্থানীয় থানায় মামলা দায়ের হওয়ার পর থেকেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
কীভাবে শুরু হয়েছিল ঘটনার সূত্রপাত? পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ছাত্র রজিত ২০২৫ সালে ওই মহিলা অ্যাসিস্ট্যান্ট অধ্যাপকের ক্লাসে পড়ত। পরবর্তীতে বিভাগ পরিবর্তন হলেও সে প্রায়ই স্টাফ রুমের আশপাশে ঘুরঘুর করত। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সে শিক্ষিকার টেবিলে একটি লাভ লেটার বা প্রেমের চিঠি রেখে আসে। সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে বিষয়টি ধরা পড়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানান ওই অধ্যাপক। সে সময় ছাত্রটি নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে নেওয়ায় বিষয়টি সাময়িকভাবে মিটে যায়।
ক্ষমা না করায় শুরু হয় আসল তাণ্ডব: অভিযোগ, এরপরও ওই ছাত্রের মানসিক বিকৃতি থামেনি। সে লাগাতার শিক্ষিকাকে ইমেল পাঠিয়ে মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। পরবর্তীতে তার বাবা-মাকে ডেকে পাঠালে সকলের সামনে সে ফের শিক্ষিকাকে ভালোবাসার কথা ঘোষণা করে। এই ঘটনার জেরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গত ২১ ফেব্রুয়ারি ওই ছাত্রকে সাসপেন্ড করে। কিন্তু সাসপেনশনের পর থেকে ছাত্রটি আরও হিংস্র হয়ে ওঠে। সে শিক্ষিকার পথ আটকে ক্ষমা চাওয়ার নাম করে জানায়, তাঁর কথা না শুনলে সে যে কোনো সময় তাঁর মুখে অ্যাসিড ঢেলে জীবন বরবাদ করে দেবে।
ফেক ইমেল বানিয়ে ছবি ও ভিডিও ভাইরাল: পরিস্থিতি চরমে পৌঁছায় যখন ছাত্রটি সাইবার অপরাধের পথ বেছে নেয়। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে একটি ভেক ইমেল অ্যাকাউন্ট তৈরি করে অন্য অধ্যাপকদের ফাঁদে ফেলে তাদের আইডি ও পাসওয়ার্ড হাতিয়ে নেয়। এরপর সেই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেই গত ২২ আগস্ট শিক্ষিকার নামে ভুয়া ইস্তফাপত্র এবং তাঁর বেশ কিছু ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ছবি এবং ভিডিও ছাত্রছাত্রীদের গ্রুপে ছড়িয়ে দেয়। অবশেষে এই বুলিং ও সাইবার সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শক্ত হাতে আইনি পদক্ষেপ নেন নিগৃহীতা শিক্ষিকা। পুলিশ আইটি অ্যাক্ট সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে।