বইমেলার একচেটিয়া অধিকারে কোপ! গিল্ডের ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে কাদের হাতে রাশ তুলে দিল রাজ্য সরকার?

ত্রিদিব-সুধাংশু জামানায় ইতি, কলকাতা বইমেলায় 24 সদস্যের নতুন কমিটি
আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার পরিচালনায় এবার এক ঐতিহাসিক ও বড়সড় রদবদল ঘটাল রাজ্য সরকার। দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা একটি নির্দিষ্ট সংগঠনের একচেটিয়া আধিপত্যে পাকাপাকিভাবে ইতি টেনে ২৪ সদস্যের নতুন উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হলো। আর এই নতুন প্যানেল ঘোষণা হতেই বইপাড়ায় শোরগোল পড়ে গেছে, কারণ নতুন এই কমিটিতে জায়গা পাননি পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ডের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায় এবং সভাপতি সুধাংশুশেখর দে।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এর মাধ্যমেই বইমেলায় আক্ষরিক অর্থেই ‘ত্রিদিব-সুধাংশু জামানা’র অবসান ঘটল। বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে বইমেলার যাবতীয় সিদ্ধান্ত, স্টল বণ্টন থেকে শুরু করে ফোকাল থিম কান্ট্রি নির্বাচন—সবকিছুই আবর্তিত হত গিল্ডের এই শীর্ষ কর্তাদের ঘিরে। তবে আগামী ২০২৭ সালের বইমেলায় সেই চেনা সমীকরণ আর থাকছে না।
কীভাবে পরিচালিত হবে আগামী বইমেলা? প্রশাসন সূত্রে খবর, আগামী দিনে কলকাতা বইমেলা আর কোনো একক সংগঠনের কুক্ষিগত থাকছে না। মেলার আয়োজনের দায়িত্ব এবার থেকে যৌথভাবে সামলাবে তিনটি সংস্থা— পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ড, পূর্বাঞ্চলীয় সংস্কৃতি কেন্দ্র (EZCC) এবং ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট (NBT)। মেলার রূপরেখা ও পরিকাঠামো সাজানোর জন্য গঠিত এই নতুন উপদেষ্টা কমিটিতে রাখা হয়েছে সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট মুখ ও মঠ-মিশনের প্রতিনিধিদের। রামকৃষ্ণ মিশনের প্রতিনিধি হিসেবে স্বামী আর্যেশানন্দ এবং ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের স্বামী সারস্বতানন্দ ছাড়াও আইনজীবী তথা বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকারসহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি এই কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন।
বদল আসছে বৈঠকের ঠিকানাতেও: নতুন এই কমিটি গঠনের ফলে মেলার প্রশাসনিক ভরকেন্দ্রও এক লহমায় সরে যাচ্ছে। এতদিন বইমেলা সংক্রান্ত যাবতীয় বৈঠক ও প্রেস কনফারেন্স গিল্ডের নিজস্ব অফিসে হলেও, নতুন কমিটির অন্যতম সদস্য দেবজিৎ সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, বইমেলার পরবর্তী সমস্ত বৈঠক এবার থেকে ইজেডসিসি-র (EZCC) দফতরেই অনুষ্ঠিত হবে।
ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে ২০২৭-এর বইমেলা: আগামী ২০২৭ সালের কলকাতা বইমেলা এক বিশেষ মাইলফলক স্পর্শ করতে চলেছে। কারণ ওই বছরটি কলকাতা বইমেলার ৫০তম বর্ষ বা সুবর্ণজয়ন্তী। একই সঙ্গে ওই বছরটি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম মন্ত্র ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকীও বটে। এই তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনার প্রভাব আগামী বইমেলার আয়োজনে স্পষ্টভাবে পড়বে। ছোট ও মাঝারি প্রকাশকদের একাংশের দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভের অবসান ঘটিয়ে এই নতুন কমিটি মেলা পরিচালনায় আরও বেশি স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক রূপ আনবে বলেই আশাবাদী গ্রন্থপ্রেমীরা।