স্পিকারের কড়া নোটিশে বিপাকে ২০ সাংসদ! অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনে দিল্লির রাজনীতিতে চরম হুলুস্থুল

দলত্যাগ বিরোধী আইনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস এবং এনসিপিআই (NCPI) সাংসদদের মধ্যকার সঙ্ঘর্ষ এবার গালিয়ে গেল সরাসরি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার দফতরে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা আবেদনের ভিত্তিতে ওই ২০ জন এনসিপিআই সাংসদের বিরুদ্ধে কড়া নোটিশ জারি করা হয়েছে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে প্রত্যেককে সশরীরে বা লিখিতভাবে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, ঠিক যে দিন সুপ্রিম কোর্টে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি চলছিল, ঠিক সেই দিনই স্পিকারের দফতর থেকে এই নোটিশ পাঠানো হয়।
সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে সামনে এল তথ্য
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির এজলাসে মামলার শুন চলাকালীনই এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। আদালতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান যে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনকে গুরুত্ব দিয়ে স্পিকারের দফতর ইতিমধ্যেই নোটিশ জারি করেছে। শীর্ষ আদালতে বিচারপর্ব চলার সময়ই লোকসভার স্পিকারের দফতর থেকে সংশ্লিষ্ট সাংসদদের বিরুদ্ধে এই আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়।
প্রাথমিকভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এই নোটিশ ঘিরে তীব্র ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তৃণমূলের সংসদীয় দলের তরফে জানানো হয়, তাদের কাছে তখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ পৌঁছায়নি। এমনকি সংশ্লিষ্ট সাংসদদের কাছ থেকেও বিকেল পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট বার্তা মেলেনি। তবে বুধবার সকালে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে স্পিকার দফতরের পাঠানো সেই চিঠির প্রতিলিপি প্রকাশ্যে আনা হয়।
সামনে এল চিঠির আসল তথ্য
প্রকাশিত নথি থেকে জানা যায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর—যেদিন সুপ্রিম কোর্টে এই মামলাটির শুনানি চলছিল, ঠিক সেই দিনই ২০ জন সাংসদের উদ্দেশে আলাদা আলাদাভাবে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে দলত্যাগবিরোধী আইন অনুযায়ী তাঁদের সংসদ পদ খারিজ করার জোরালো দাবি তোলা হয়েছে। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিটি সাংসদের নিজস্ব বক্তব্য ও যুক্তি কী, তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আলাদাভাবে জানাতে বলা হয়েছে।
এই ২০ জন এনসিপিআই সাংসদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন কেবল কথার লড়াই বা রাজনৈতিক চাপানউতোরে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সরাসরি সংসদীয় পদ্ধতির আইনি মারপ্যাঁচে আটকে গেছে। সুপ্রিম কোর্টের বিচার প্রক্রিয়ার পাশাপাশি লোকসভার স্পিকার দফতরের এই নোটিশ গোটা রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে অভিযুক্ত সাংসদদের কাছ থেকে জবাব পাওয়ার পর স্পিকার দফতর ঠিক কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, এখন সেদিকেই চাতক পাখির মতো তাকিয়ে রয়েছে জাতীয় রাজনীতি।