চিকিৎসক আক্রান্ত হতেই হুড়মুড়িয়ে অ্যালার্ট! উত্তরপ্রদেশে সোয়াইন ফ্লুর থাবায় হুলুস্থুল কাণ্ড

উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদে সোয়াইন ফ্লু (Swine Flu) বা H1N1 ভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ার পরেই তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শহরেরই এক স্থানীয় এমবিবিএস চিকিৎসকের শরীরে এই মারাত্মক ভাইরাসের উপস্থিতি মিলতেই নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর ওই চিকিৎসকের আরটি-পিসিআর (RT-PCR) পরীক্ষা করা হয়, আর তাতেই রিপোর্ট পজিটিভ আসে। বর্তমানে চিকিৎসকদের কঠোর তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়েছে।
কীভাবে ছড়াল সংক্রমণ?
সংক্রমিত ওই চিকিৎসক গত তিন দিন ধরে তীব্র জ্বর, সর্দি-কাশি এবং চরম শারীরিক দুর্বলতায় ভুগছিলেন। পেশাগতভাবে চিকিৎসাবিদ্যার সঙ্গে যুক্ত থাকায় তিনি সময়মতো লক্ষণগুলি বুঝতে পেরে দ্রুত পরীক্ষার ব্যবস্থা করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সোয়াইন ফ্লুর চিকিৎসায় প্রথম ধাপের পদক্ষপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাঁকে ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ওই চিকিৎসকের সাম্প্রতিক সময়ে কোনো ভ্রমণ বা বাইরে যাওয়ার ইতিহাস নেই। ফলে স্বাস্থ্য আধিকারিকদের প্রাথমিক অনুমান, স্থানীয় স্তরেই কোনো আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এসে তিনি এই ভাইরাসের শিকার হয়েছেন। যদিও প্রকৃত উৎস নিশ্চিত করতে জোরকদমে তদন্ত চলছে।
পরিবারকে আইসোলেশন ও বিশেষ সতর্কতা
চিকিৎসকের মাধ্যমে যাতে পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে সংক্রমণ না ছড়ায়, তার জন্য দ্রুত প্রিভেন্টিভ স্টেপ নিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। চিকিৎসকের মা ও বাবাকেও চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ‘টেমিফ্লু’ (Tamiflu) নামক অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ দেওয়া হয়েছে। পুরো পরিবারকে আপাতত হোম আইসোলেশনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, আক্রান্ত চিকিৎসকের সংস্পর্শে কারা কারা এসেছিলেন, তাদের একটি তালিকা তৈরি করে স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে ওপর বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।
হাসপাতালে বিশেষ বেড ও প্রস্তুতি
প্রথম কেস সামনে আসতেই জেলা হাসপাতালের পরিকাঠামো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, জেলা হাসপাতালে সোয়াইন ফ্লু ও গুরুতর শ্বাসকষ্টজনিত (SARI) রোগীদের জন্য মোট ১৫টি ডেডিকেটেড বেড সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। যার মধ্যে ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডে ৩টি, SARI ওয়ার্ডে ২টি এবং ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট ওয়ার্ডে ১০টি বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সন্দেহভাজন রোগীদের দ্রুত পরীক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজনে আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসার বন্দোবস্ত করা হয়েছে।
যে লক্ষণগুলি এড়াবেন না
সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে একগুচ্ছ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তীব্র জ্বর, লাগাতার কাশি, গলা ব্যথা, মাথা যন্ত্রণা, চরম দুর্বলতা এবং শ্বাসকষ্টের মতো কোনো লক্ষণ দেখা দিলেই তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। জনবহুল এলাকায় যাতায়াত এড়ানো, বাইরে বের হলে মাস্ক পরা, এবং নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার মতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে রয়েছে।