মহিষের আসল মালিক কে? থানা থেকে গড়িয়ে সোজা DNA টেস্ট পর্যন্ত পৌঁছাল আজব মামলা!

জমি, বাড়ি কিংবা সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে কোন্দল তো হামেশাই শোনা যায়। কিন্তু একটি মহিষ কার—তা নির্ধারণ করতে গিয়ে থানা-পুলিশ থেকে শুরু করে ডিএনএ পরীক্ষা পর্যন্ত গড়িয়েছে এমন ঘটনা সচরাচর দেখা যায় না। বিহারের গয়া জেলায় একটি মহিষের মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের এমন ধুন্ধুমার কাণ্ড ও আইনি লড়াই এখন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছে গয়ার আটারি থানায়?
ঘটনাটি বিহারের গয়ার আটারি থানা এলাকার নৌরঙ্গা গ্রামের। কিছুদিন আগে মোহদা গ্রামের বাসিন্দা সুরজ যাদব তাঁর একটি মহিষ হারিয়ে ফেলেন বলে অভিযোগ করেন। ব্যাপক খোঁজাখুঁজির পর তিনি জানতে পারেন যে মহিষটি উপথুর মহাচক গ্রামের প্রকাশ মাঞ্জিদের কাছে রয়েছে। এরপর সুরজ যাদব নৌরঙ্গায় গিয়ে মহিষটি তাঁর বলে দাবি করেন এবং পুলিশের দ্বারস্থ হন। খবর পেয়ে আটারি থানার পুলিশ মহিষটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে এবং প্রাথমিক তদন্তের পর সুরজ যাদবের জিম্মায় দেয়।
কিন্তু এখানেই বিতর্কের শেষ হয়নি। প্রকাশ মাঞ্জির পক্ষ জোরালো দাবি তোলে যে, এই মহিষটি তাঁদেরই এবং প্রায় চার বছর আগে এটি চুরি হয়ে গিয়েছিল। তাঁদের দাবি, মহিষটি নিজে থেকেই পথ ভুলে নৌরঙ্গায় এসে তার পুরোনো বাড়ি চিনে নিয়েছে। দুই পক্ষের এমন অনড় দাবির জেরে পরিস্থিতি চরমে ওঠে এবং স্থানীয় থানার বিরুদ্ধে একপক্ষকে পক্ষপাতিত্ব করার অভিযোগও ওঠে।
আসল মালিক খুঁজতে এবার ডিএনএ টেস্ট
পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় বিষয়টি গড়ায় মগধ রেঞ্জের আইজি বিকাশ বৈভবের পর্যন্ত। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তিনি অবিলম্বে মহিষটির প্রকৃত মালিককে শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষার (DNA Test) নির্দেশ দিয়েছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওই মহিষটির ডিএনএ নমুনা দুই পক্ষেরই অন্য মহিষের বাচ্চার ডিএনএ-র সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। যার সঙ্গে মিলবে, মহিষটি তাঁর পক্ষকেই ফিরিয়ে দেওয়া হবে। গ্রামীণ পুলিশ সুপার দিব্যাঞ্জলি জয়সওয়ালকে এই পুরো তদন্ত দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যে, বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও শোরগোল শুরু হয়েছে। স্থানীয় গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে আইজির সঙ্গে দেখা করে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন রাজনৈতিক প্রতিনিধিরা। মানুষের জমি বা সম্পত্তির জট ছাড়াতে ডিএনএ টেস্টের কথা শোনা গেলেও, একটি মহিষের আসল মালিক খুঁজে বের করতে বিজ্ঞানের এই সাহায্য নেওয়ার ঘটনা ইতিহাসে বিরল। এখন সকলের নজর পুলিশের পরবর্তী তদন্ত এবং ডিএনএ রিপোর্টের দিকে।