নাগরিকত্ব পাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ! পূর্ব বর্ধমানে শুরু হলো CAA স্পেশাল ক্যাম্প, কী কী নথি লাগছে?

বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা শরণার্থীদের নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ আরও সহজ করতে এবার আসরে নামল মতুয়া মহাসংঘ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের নির্দেশেই পূর্ব বর্ধমানের বড়শুলে শুরু হয়েছে বিশেষ সিএএ (CAA) সহায়তা শিবির। মূলত যাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা নথিপত্র নিয়ে সমস্যা রয়েছে, তাঁদের আবেদনপত্র পূরণ থেকে শুরু করে সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কোথায় চলছে এই ক্যাম্প?
পূর্ব বর্ধমানের বড়শুলের অন্নদাপল্লী হরিমন্দিরে এই বিশেষ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে। মতুয়া আঞ্চলিক কমিটির যৌথ উদ্যোগে এই শিবির পরিচালিত হচ্ছে। আয়োজকদের দাবি, ওপার বাংলা থেকে এ দেশে আসা বহু শরণার্থীর কাছেই নির্দিষ্ট কাগজপত্র থাকে না, যার ফলে তাঁরা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে গিয়ে নানা হয়রানির শিকার হন। সেই সমস্যার পাকাপাকি সমাধান করতেই এই সাহায্য কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
আবেদনের জন্য কী কী নথি প্রয়োজন?
ক্যাম্পে শুধু আবেদনপত্র জমা নেওয়াই হচ্ছে না, বরং নিখুঁতভাবে ফর্ম পূরণ, নথিপত্র যাচাই এবং বিভিন্ন সার্টিফিকেট তৈরির ক্ষেত্রেও সাহায্য করা হচ্ছে। সিএএ-র নিয়মানুযায়ী আবেদন করতে মূলত যে নথিগুলি লাগছে সেগুলি হল—
১. ভারতের যেকোনো একটি বৈধ পরিচয়পত্র বা নথি।
২. বাংলাদেশের কোনো পুরনো সরকারি বা স্থানীয় নথি।
৩. সাক্ষী হিসেবে এলাকার একজন প্রতিবেশীর স্বাক্ষর।
৪. হিন্দু সার্টিফিকেট বা ধর্মীয় পরিচয় সংক্রান্ত শংসাপত্র।
আয়োজক কমিটির সদস্য অরুণ মণ্ডল ও ভবরঞ্জন সরকার জানিয়েছেন, পূর্ব বাংলা থেকে আগত সাধারণ মানুষের নথিপত্র সংক্রান্ত সমস্ত জটিলতা দূর করতেই এই শিবির করা হয়েছে। আবেদন প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ হওয়ার পর প্রায় এক মাসের মধ্যে নাগরিকত্বের শংসাপত্র হাতে পেতেও সবরকম সাহায্য করা হবে। এই বিশেষ ক্যাম্পে প্রথম দিন থেকেই সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল বেশ ভালো, যা থেকে স্পষ্ট যে রিফিউজিদের বড় একটি অংশ এই সুবিধার অপেক্ষায় ছিলেন।