মহীনের ঘোড়াগুলির নাম ভুলে গেলেন অভিজিৎ! বাংলা ব্যান্ডকে কটাক্ষ করতেই নেটপাড়ায় প্রতিবাদের ঝড়

মহীনের ঘোড়াগুলি ব্যান্ডের নাম বলতে গিয়ে মাঝপথে আটকে গেলেন প্রখ্যাত গায়ক অভিজিৎ ভট্টাচার্য। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে বাংলা সংগীত জগত এবং আধুনিক ব্যান্ড সংস্কৃতি নিয়ে একাধিক কড়া মন্তব্য করেছেন তিনি। তাঁর এই বক্তব্য সামনে আসার পরেই শুরু হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। বিশেষ করে বাংলার রকপ্রেমী এবং শ্রোতাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
পডকাস্টে আলাপচারিতার এক পর্যায়ে অভিজিৎ জানান, বর্তমান প্রজন্মের বাংলা গান বা শিল্পীদের কাজ তাঁকে খুব একটা টানে না। তাঁর মতে, অতীতে মহীনের ঘোড়াগুলি যেভাবে বাংলা গানে একটি বুদ্ধিবৃত্তিক ধারা তৈরি করেছিল, বর্তমানের দলগুলি তার ধারেকাছেও যেতে পারে না। এমনকি এই কিংবদন্তি ব্যান্ডের নাম উচ্চারণ করতে গিয়ে তিনি কিছুটা হোঁচট খান এবং সঞ্চালক তাঁকে নাম মনে করিয়ে দেন।
আধুনিক ব্যান্ডের পরিবেশনা শৈলী নিয়েও তির্যক মন্তব্য করেন এই গায়ক। তাঁর দাবি, মঞ্চে শুধু চুল নাড়িয়ে বা অতিরিক্ত চিৎকার করে গান পরিবেশন করলেই তা ভালো সংগীত হয় না। সঞ্চালক সেই সময় বাংলা ব্যান্ডের জনপ্রিয় দল ফসিলসের নাম তুললে, অভিজিৎ ইশারায় বুঝিয়ে দেন যে বর্তমানের সমস্ত ব্যান্ডই আসলে মহীনের ঘোড়াগুলির অনুকরণ বা কপি মাত্র। নিজেকে রসিকতার সুরে আউটডেটেড বলে দাবি করলেও, গানে মেধা ও সুরের অভাব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে ভোলেননি তিনি।
তবে যোগ্য শিল্পীরা সঠিক মূল্যায়ন পাচ্ছেন না— এই আক্ষেপ প্রকাশ করলেও তাঁর মন্তব্য ভালোভাবে নেননি শ্রোতারা। বাংলার গুণী শিল্পী এবং ভালো লেখার অভাব নেই দাবি করে তিনি বলেন যে খারাপ কাজ করা মানুষেরা আজকাল বেশি জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
এই পডকাস্টের ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন নেটিজেনরা। এক শ্রোতা লিখেছেন, আপনি যখন মুম্বইয়ে বসে ক্যারিয়ার গড়ছিলেন, তখন আমরা বাংলা অল্টারনেটিভ মিউজিকের হাত ধরেই বড় হয়েছি। ফসিলস বা ক্যাকটাসের মতো ব্যান্ড আমাদের আবেগ। আপনার এই মন্তব্য আর মেনে নেওয়া যায় না। অন্য একজন আবার সরাসরি প্রশ্ন তোলেন গায়কের বর্তমান সংগীত নিয়েই। সব মিলিয়ে অভিজিতের এই আলটপকা মন্তব্য এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।