ক্লাসে শাসন করার অপরাধ! প্রধান শিক্ষকের সামনেই কোমর থেকে বেল্ট খুলে দুই শিক্ষককে বেধড়ক পেটালেন অভিভাবক

স্কুলে ছাত্রকে সামান্য শাসন করার অপরাধে খোদ প্রধান শিক্ষকের সামনে শিক্ষকদের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগ উঠল এক অভিভাবকের বিরুদ্ধে। উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগর থানার অন্তর্গত গোপালনগর হরিপদ ইনস্টিটিউশনে ঘটা এই মর্মান্তিক ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আসতেই তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। আর এই ভিডিও সামনে আসার পরেই রাজ্যের শিক্ষক সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি ওই স্কুলে একাদশ শ্রেণির রেজিস্ট্রেশনের প্রক্রিয়া চলাকালীন ক্লাসরুমের ভেতরে কয়েকজন পড়ুয়া চরম বিশৃঙ্খলা শুরু করে। সেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হস্তক্ষেপ করেন শিক্ষক অরুণ দাস। ছাত্রদের শান্ত করতে তিনি সামান্য বকাঝকা ও শাসন করেন। অভিযোগ, স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফিরে ওই ছাত্র সমস্ত ঘটনা তার পরিবারকে জানায়। এরপরই রুদ্রমূর্তি ধারণ করে সোজা স্কুলে এসে চড়াও হন ওই ছাত্রের বাবা।
সামনে আসা ভাইরাল সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা গিয়েছে, অভিযুক্ত দেবব্রত দাস স্কুলে ঢুকেই সোজা প্রধান শিক্ষক সমরেশচন্দ্র মণ্ডলের ঘরে প্রবেশ করেন। সেখানে শিক্ষক অরুণ দাসের সঙ্গে তাঁর তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়। বচসা চলাকালীন হঠাৎই কোমর থেকে বেল্ট খুলে শিক্ষককে বেধড়ক মারধর শুরু করেন ওই অভিভাবক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং সহকর্মীকে বাঁচাতে এগিয়ে যান প্রধান শিক্ষক সমরেশ বাবু নিজে। কিন্তু উন্মত্ত ওই অভিভাবক প্রধান শিক্ষককেও রেয়াত করেননি, তাঁকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর অন্য শিক্ষক ও অশিক্ষিত কর্মীরা ছুটে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং পুলিশে খবর দেন। পুলিশ তৎক্ষণাৎ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে।
এই ঘটনার পর চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন শিক্ষক মহল। স্কুলের প্রধান শিক্ষক সমরেশ মণ্ডল হতাশা প্রকাশ করে জানান, স্কুলে ন্যূনতম শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য শিক্ষকদের অনেক সময় ছাত্রদের সামান্য শাসন করতে হয়। কিন্তু এর জন্য যদি এভাবে অভিভাবকরা স্কুলে ঢুকে বেল্ট নিয়ে শিক্ষকদের ওপর হামলা চালান, তবে স্বাভাবিক পঠনপাঠন চালিয়ে যাওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। বর্তমানে এই ন্যক্কারজনক ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।