‘সংস্কৃতি মনে থাকে, নেকলাইনে নয়!’ রাখী বিতর্ক তুঙ্গে উঠতেই ট্রোলদের কড়া জবাব দিলেন অভিনেত্রী কৃতি

রাখী বন্ধন উপলক্ষে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে বলিউডে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। ওই বিজ্ঞাপনে অভিনেত্রী কৃতি শ্যাননের পরা আধুনিক পোশাক এবং একটি কুকুরকে রাখি পরানোর দৃশ্য নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। শুধু নেটিজেনরাই নন, এই বিষয়ে সরব হয়েছেন বিজেপি সাংসদ তথা অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউতও। আর এর পরেই সমালোচকদের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন খোদ কৃতি, যা নিয়ে এখন শোরগোল পড়ে গিয়েছে বিনোদন মহলে।

একটি খ্যাতনামা গয়না ব্র্যান্ডের ওই বিজ্ঞাপনে সাদা রঙের ব্র্যালেট-স্টাইলের ব্লাউজ, কেপ এবং ড্রেপড স্কার্ট পরে দেখা গিয়েছিল কৃতিকে। ঐতিহ্যবাহী উৎসবে এই ধরনের আধুনিক ফ্যাশনের প্রয়োগ নিয়েই মূলত প্রশ্ন তোলেন সমালোচকদের একাংশ। পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন এই বিতর্কে যোগ দেন কঙ্গনা রানাউত। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে কৃতিকে নিশানা করে কঙ্গনা প্রশ্ন তোলেন, আলমারিতে হরেক রকমের পোশাকের অপশন থাকতে কেন অন্তর্বাস বা বিকিনি সদৃশ পোশাকে ভাইকে রাখি বাঁধতে হবে? এই বিজ্ঞাপনটিকে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে অস্বস্তিকর’ বলেও আক্রমণ করেন তিনি।

সমালোচনার ঝড়ের মুখে পড়ে চুপ থাকেননি ৩৬ বছর বয়সী কৃতি। সামাজিক মাধ্যমে স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানান, উৎসবের আসল সার্থকতা পরা কাপড়ে নয়, বরং ঐতিহ্য সম্পর্কে অনুভূতি এবং উপলব্ধির মধ্যেই নিহিত থাকে। বোন ও ভাইয়ের সম্পর্কের মতো পবিত্র বন্ধনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পরিবারের সুরক্ষার দায়িত্ব শুধু ভাইয়ের একার নয়, বোনেরাও সমানভাবে তা পালন করে। পাশাপাশি বিজ্ঞাপনে পোষ্যকে রাখি পরানোর দৃশ্য প্রসঙ্গে কৃতির সাফাই, ওরাও তো পরিবারেরই একটা অংশ, তাই তাদের জন্যও একই ভালোবাসা ও শুভকামনা থাকে।

সবচেয়ে জোরালোভাবে মহিলাদের পোশাক নিয়ে বিচার করার পুরোনো মানসিকতার বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন কৃতি। তাঁর দ্ব্যর্থহীন মন্তব্য, বারবার মহিলাদের বলে দেওয়া বন্ধ হওয়া উচিত তাদের কী পরা উচিত আর কী নয়। সময়ের সঙ্গে ফ্যাশন পাল্টালেও আজও একজন নারী সংস্কৃতিকে কতটা সম্মান করেন, তা তাঁর পোশাকের ধরন দেখে মাপা হয়। অত্যন্ত কড়া ভাষায় তিনি লেখেন, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য মানুষের মনে থাকে, জামার নেকলাইনে নয়। কৃতির এই সাহসী ও মার্জিত অবস্থান ইতিমধ্যেই অনুরাগীদের কাছ থেকে ব্যাপক সমর্থন ও প্রশংসা কুড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *