কলকাতা ও হাওড়া পুরসভা নিয়ে বিরাট ছক বিজেপির! ভোটের আগেই বিস্ফোরক পূর্বাভাস দিয়ে কী বললেন সুকান্ত?

আসন্ন কলকাতা ও হাওড়া পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক ময়দানে এখন থেকেই উত্তাপ বাড়াতে শুরু করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। বিধানসভা নির্বাচনের ফর্মুলাকে সামনে রেখেই এবার পুরভোটে ঝাঁপানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে গেরুয়া শিবির। দলের এই রণকৌশল এবং আসন জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী সুর শোনা গেল কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদারের গলায়। সাফ জানিয়ে দিলেন, আগামী পুরভোটে শরিক দলগুলির সঙ্গে নয়, বরং সম্পূর্ণ এককভাবেই লড়বে বিজেপি।

আসন্ন নির্বাচনে কাদের প্রার্থী করা হবে এবং শরিক দলের সঙ্গে কোনো আসন সমঝোতা হবে কি না—এই সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সুকান্ত মজুমদার স্পষ্ট করে জানান যে, দলের সুনির্দিষ্ট পরিকাঠামো এবং কমিটির মাধ্যমেই নিচুতলার সঙ্গে আলোচনা করে প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করা হবে। রাজ্য সভাপতির সম্মতিতেই সেই তালিকা প্রকাশ পাবে। তাঁর দাবি, অতীতেও এই রাজ্যে বিজেপি একাই লড়েছে এবং বহু আসন জিতেছে, তাই এবারও শরিকি আসন ভাগাভাগির কোনো প্রশ্নই নেই। বিশেষ করে গত বিধানসভা নির্বাচনের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত ধরাশায়ী হয়েছে। এই সাফল্যের ধারা বজায় রেখেই আসন্ন পুরভোটে ২০০-রও বেশি আসনের মধ্যে ১৫০ থেকে শুরু করে ১৭০-১৮০টি আসনে জয়ের ব্যাপারে তাঁরা প্রবল আশাবাদী।

পুরভোটের কৌশল ও দায়িত্ববণ্টন: বিজেপির অন্দরমহল সূত্রে খবর, কেবল মুখের কথায় নয়, একেবারে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে ময়দানে নামছে দল। বিধানসভা ভোটের আদলেই এবার পুরভোটেও শাসক দলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ‘চার্জশিট’ পেশ করবে বিজেপি। বিশেষ করে কলকাতার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরদের ব্যর্থতা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ভোটারদের মন জয় করার কৌশল নেওয়া হয়েছে। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ভাবমূর্তিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে একটি বিশেষ এসওপি (SOP) বা আদর্শ কার্যপ্রণালী তৈরি করা হচ্ছে।

এদিকে, এই মেগা লড়াইকে সফল করতে শীর্ষ স্তরে দায়িত্ববণ্টনও সম্পন্ন হয়েছে। কলকাতার পুরভোটের সামগ্রিক প্রস্তুতির পুরোভাগে রয়েছেন স্বয়ং সুকান্ত মজুমদার। তাঁর সঙ্গে এই গুরুদায়িত্ব সামলাচ্ছেন অভিজ্ঞ নেতা রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়, তাপস রায় এবং রিতেশ তিওয়ারি। অন্যদিকে, শিল্পশহর হাওড়ার পুরভোটের পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হেভিওয়েট নেতা রাহুল সিন্হা এবং আহ্বায়ক সঞ্জয় সিংকে। সব মিলিয়ে, পুরনিগমের দখল নিতে শাসক শিবিরকে কড়া টক্কর দিতে এখন থেকেই ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করে ময়দানে নেমে পড়েছে রাজ্য বিজেপি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *