চালক ছাড়াই আকাশে ওড়বে ভারতের মারকাটারি ফাইটার জেট! এআই প্রযুক্তিতে কাঁপবে শত্রুর বুক

প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক ছোঁয়ার পথে এগোচ্ছে ভারত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর (AI) সাহায্যে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় যুদ্ধবিমান তৈরির বড় পদক্ষেপ করল দেশীয় বেসরকারি সংস্থা। বেঙ্গালুরু-ভিত্তিক প্রতিরক্ষা গবেষণা ও প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘ফ্লাইং ওয়েজ ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যারোস্পেস’ সম্প্রতি ‘এফডব্লিউডি সুপ্রিম লাইট’ (FWD Supreme Lite) নামে একটি নতুন উড়ন্ত পরীক্ষামূলক যান উন্মোচন করেছে। প্রায় ২৫০ কিলোগ্রাম ওজনের এই এআই-টেস্টবেডটি ভবিষ্যতের আকাশযুদ্ধের সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
২০২৬ সালেই প্রথম উড্ডয়নের লক্ষ্য
সংস্থার পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালেই এই পরীক্ষামূলক যুদ্ধবিমানটির প্রথম সফল উড্ডয়ন সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতের যুদ্ধবিমানগুলোকে পুরোপুরি স্বাধীনভাবে ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালনার উপযোগী করে তুলতে এই পরীক্ষামূলক যানটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এতে যে সমস্ত অত্যাধুনিক প্রযুক্তি পরীক্ষা করা হবে তার মধ্যে রয়েছে—
স্বয়ংক্রিয় দিকনির্দেশনা: কোনো রকম মানব হস্তক্ষেপ ছাড়াই বিমানটি নিজেই তার চলার পথ বা রুট নির্ধারণ করতে সক্ষম হবে।
সেন্সর ফিউশন: বিভিন্ন সেন্সর থেকে রিয়েল-টাইম তথ্য সংগ্রহ ও তা নিখুঁতভাবে একত্রিত করে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা।
স্বায়ত্তশাসিত অভিযান: মিশন চলাকালীন যেকোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে নিজে থেকে কৌশলগত ও জটিল সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা।
এআই ড্রোন ঝাঁক ও ছোট রানওয়ে থেকে উড্ডয়ন
শুধু একটি একক বিমান তৈরিই নয়, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যতে একাধিক এআই-সক্ষম ড্রোন বা বিমানের ঝাঁক (Swarm Technology) একসঙ্গে পরিচালনা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে ড্রোনের একটি বিশাল ঝাঁক শত্রুর আকাশসীমায় ঢুকে নজরদারি, লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ এবং নির্ভুল আক্রমণ হানার মতো অভিযান একে অপরের সঙ্গে নিখুঁত সমন্বয় রেখে সম্পন্ন করতে পারবে। এছাড়া, এই বিমানে ‘র্যাটো’ (RATO – Rocket Assisted Take-Off) প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে, যা অত্যন্ত ছোট বা প্রতিকূল অবস্থার রানওয়ে থেকেও বিমানটিকে সহজে আকাশে ওড়াতে সাহায্য করবে।
বেসরকারি প্রতিরক্ষা খাতে নতুন দিগন্ত
বিশেষজ্ঞদের মতে, এফডব্লিউডি সুপ্রিম লাইট-এর আত্মপ্রকাশ ভারতের বেসরকারি প্রতিরক্ষা খাতের মুকুটে এক নতুন পালক যোগ করল। এটি সফলভাবে পরীক্ষিত হলে ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক স্বায়ত্তশাসিত প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে শক্তিশালী আকাশ যুদ্ধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পথ প্রশস্ত হবে।