বয়স্ক ও বিধবাদের মাসিক ভাতা বেড়ে হল ২,০০০ টাকা, বাতিল পুরনো সমস্ত আবেদন!

পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষ ও প্রবীণ নাগরিকদের সামাজিক সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে একটি অত্যন্ত বড় ও যুগান্তকারী ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। নবান্নে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে, রাজ্যের বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্পের আওতায় থাকা বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা এবং প্রতিবন্ধী বা দিব্যাঙ্গ ভাতার পরিমাণ আরও ৫০০ টাকা করে বাড়ানো হচ্ছে। এর ফলে চলতি আর্থিক বছরের বিভিন্ন ধাপে এই ভাতাগুলি ১,৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে সরাসরি ২,,০০০ টাকায় উন্নীত করা হবে। সরকারের এই মেগা ঘোষণায় রাজ্যের প্রবীণ নাগরিক, অসচ্ছল বিধবা এবং বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিরা আর্থিকভাবে দারুণভাবে উপকৃত হবেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসেই এই ভাতা ১,,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করা হয়েছিল এবং ১ অগাস্ট থেকে উপভোক্তারা সেই বর্ধিত অর্থ পেতে শুরু করেছিলেন। তবে এবার আর্থিক সাহায্য আরও কিছুটা বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার বার্তা দিল নবান্ন।

ভাতা বৃদ্ধির এই খুশির খবরের পাশাপাশি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এক অত্যন্ত কড়া ও যুগান্তকারী প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, পূর্ববর্তী সরকারের আমল থেকে এখনও পর্যন্ত সামাজিক পেনশনের জন্য জমা পড়ে থাকা সমস্ত পুরনো আবেদনপত্র একেবারে বাতিল বলে গণ্য করা হবে। অর্থাৎ, অতীতে যারা এই সমস্ত ভাতার সুবিধার আশায় আবেদনপত্র জমা দিয়েছিলেন, তাঁদের কাউকেই আর পুরনো আবেদনের ভিত্তিতে সুবিধা দেওয়া হবে না। সকলকেই এখন নতুন করে নতুন নিয়মে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। নবান্ন সূত্রে খবর, নতুন করে জমা পড়া এই সমস্ত আবেদনগুলি অত্যন্ত কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে খুঁটিয়ে যাচাই-বাছাই করা হবে। আবেদনকারীর প্রকৃত বয়স, তাঁদের পারিবারিক আর্থিক অবস্থা এবং নির্ধারিত যোগ্যতার অন্যান্য মাপকাঠিগুলি জেলা ও ব্লক প্রশাসন অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে খতিয়ে দেখবে। সমস্ত নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার পরেই কেবল চূড়ান্ত উপভোক্তাদের নতুন তালিকা প্রস্তুত করা হবে। যদিও ঠিক কবে থেকে এই বর্ধিত ২,০০০ টাকার মাসিক ভাতা উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি পাঠানো শুরু হবে, সেই নির্দিষ্ট তারিখ বা সময় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। তবে প্রশাসনিক মহলের একটি বড় অংশের অনুমান, গোটা রাজ্যজুড়ে নতুন আবেদনপত্র গ্রহণ এবং তা স্ক্যান ও ভেরিফাই করার প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগতে পারে। সেই কারণে আগামী নতুন আর্থিক বছরের শুরু অর্থাৎ এপ্রিল মাস থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই দুই হাজার টাকার বর্ধিত ভাতা পাওয়ার সুবিধা শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নতুন এই নিয়মে আবেদনের জন্য বার্ধক্য ভাতার ক্ষেত্রে সাধারণ আবেদনকারীদের ন্যূনতম বয়স ষাট বছর হতে হবে এবং বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম বয়স পঞ্চান্ন বছর নির্ধারিত হয়েছে। সঠিক জন্মতারিখ জানা না থাকলে জন্মছকের জুলাই মাসের ১ তারিখ এবং মাস জানা থাকলে ১৬ তারিখটিকে ভিত্তি করে বয়স গণনা করা হবে। পাশাপাশি আবেদনকারীকে অন্তত একটানা দশ বছর এ রাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে হবে। আবেদন জানানোর জন্য আবেদনকারীকে ভারতের নাগরিক এবং দারিদ্র্যসীমার নিচে (বিপিএল) বসবাসকারী পরিবারের সদস্য হতে হবে। প্রয়োজনীয় নথিপত্রের মধ্যে রয়েছে আধার কার্ডের স্ব-প্রত্যয়িত কপি, রেশন কার্ডের কপি, ভোটার পরিচয়পত্র, প্রতিবন্ধী শংসাপত্র (প্রয়োজনে), আয়কর শংসাপত্র, স্বামীর মৃত্যু শংসাপত্র (বিধবাদের ক্ষেত্রে), ব্যাঙ্ক পাসবুকের কপি, নমিনেশন ফর্ম এবং পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি। গ্রামাঞ্চলের ইচ্ছুক প্রার্থীরা সংশ্লিষ্ট বিডিও কার্যালয় বা পঞ্চায়েত সমিতি অফিস থেকে বিনামূল্যে ফর্ম সংগ্রহ করে তা পূরণ করে জমা দিতে পারবেন। পাশাপাশি অনলাইন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উমাং (UMANG) ওয়েবসাইট

(https://web.umang.gov.in/web_new/home) বা অ্যাপ ব্যবহার করে মোবাইল নম্বর ও ওটিপির মাধ্যমে লগ ইন করে এনএসএপি (NSAP) সার্চ করে অনলাইনেই আবেদন করা সম্ভব। সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আগের মতোই ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার বা ডিবিটি (DBT)-র মাধ্যমে সরাসরি এই ভাতার টাকা পৌঁছে যাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *