রাহুল গান্ধীর গালে আচমকা চুমু! পুনের সেই ভাইরাল ছাত্রী কে? জানলে অবাক হবেন তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

পুনেতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর ‘স্টুডেন্টস গুঞ্জ’ অনুষ্ঠানে ঘটে যাওয়া একটি অপ্রত্যাশিত ও আকস্মিক ঘটনা বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় চরম আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনুষ্ঠানে সেলফি তোলার আবদারে এসে হঠাৎ করেই রাহুল গান্ধীর গালে এক ছাত্রী চুমু দিয়ে বসেন। মুহূর্তের মধ্যে এই ঘটনার ভিডিওটি ইন্টারনেটে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ওই ছাত্রীকে নিয়ে কৌতূহলের অন্ত থাকে না। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই ওই ছাত্রী নিজে মুখ খুলেছেন এবং তাঁর ভবিষ্যৎ স্বপ্ন ও ব্যক্তিগত লক্ষ্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক কে এই ভাইরাল ছাত্রী এবং কী তাঁর আসল উদ্দেশ্য।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে যে ছাত্রীকে দেখা গেছে, তাঁর নাম মরিয়ম। তিনি বর্তমানে একাদশ শ্রেণীতে পড়াশোনা করছেন। রাহুল গান্ধীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া এই আকস্মিক ঘটনার পর থেকেই তিনি সোশ্যাল মিডিয়ার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে মরিয়ম রাহুল গান্ধীকে তাঁর জীবনের অন্যতম আদর্শ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে তিনি ঠিক রাহুল গান্ধীর মতো জনমুখী মানসিকতা নিয়ে দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চান। তাঁর এই সরল অভিব্যক্তি ও সাহসিকতা ইতিমধ্যেই নেটিজেনদের একাংশের নজর কেড়েছে।
পড়াশোনার পাশাপাশি চিকিৎসাবিদ্যা এবং আইন নিয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জনের সুদূরপ্রসারী স্বপ্ন রয়েছে মরিয়মের। তিনি জানিয়েছেন যে, ডাক্তার হওয়ার পাশাপাশি তিনি আইন নিয়ে পড়াশোনা করতে চান, যাতে সমাজের গভীরে গিয়ে দেশের আইনি ও সামাজিক পরিকাঠামোকে বুঝতে সুবিধা হয়। শিক্ষা সমাপ্ত করার পর তাঁর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য রয়েছে সরাসরি রাজনীতিতে প্রবেশ করার। মরিয়মের জোরালো বিশ্বাস, সমাজ ও দেশের জটিল সমস্যাগুলি সঠিকভাবে অনুধাবন করতে হলে সুশিক্ষার পাশাপাশি জনজীবনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা অত্যন্ত জরুরি। দেশের বর্তমান যুবসমাজ যে দেশের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে, সে কথাই তিনি বারবার তুলে ধরেছেন।
দেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট, লাগামছাড়া মুদ্রাস্ফীতি এবং গভীর দারিদ্র্যের মতো গুরুতর বিষয়গুলি নিয়ে নিজের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মরিয়ম। তিনি অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে ব্যাখ্যা করেছেন যে, তিনি নিজ চোখের সামনে এমন বহু অভাবী পরিবার দেখেছেন, যাদের ছোট ছোট সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার মতো ন্যূনতম পাঠ্যবই বা খাতা কেনার সামর্থ্যটুকুও নেই। এই বঞ্চনা ও করুণ পরিস্থিতি তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত করে। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেছেন যে, আগামী দিনে তিনি দেশের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান এবং সমাজের প্রতিটি স্তরে এক ইতিবাচক পরিবর্তন আনার জন্য সর্বশক্তি দিয়ে সচেষ্ট হবেন।
রাহুল গান্ধীর সঙ্গে সেলফি তোলার এই আকস্মিক ঘটনাটি ভিডিও আকারে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে যেমন বিষয়টিকে সহজভাবে নিয়েছেন, তেমনই কেউ কেউ এর সমালোচনাও করেছেন। তবে সমস্ত বিতর্ককে পেছনে ফেলে নিজের আদর্শ ও লক্ষ্য সম্পর্কে মরিয়ম অত্যন্ত স্পষ্ট ও সাবলীলভাবে কথা বলেছেন। বর্তমানে পুনের ওই বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সুবাদেই তিনি দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেনসেশনে পরিণত হয়েছেন এবং তাঁর এই ভাইরাল রূপ আগামী দিনে তাঁকে কোন পথে নিয়ে যায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।