রাত ২টোর সময় দেবের ফোন শুভশ্রীকে, হঠাৎ মাঝরাতে এমন কী ঘটেছিল?

বাংলা সিনেমার সোনালী ইতিহাসের অন্যতম চর্চিত এবং জনপ্রিয় অনস্ক্রিন জুটি দেব ও শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। একটা সময় তাঁদের অফস্ক্রিন রোম্যান্স ও প্রেমকাহিনি টলিউডের অন্দরে ওপেন সিক্রেট থাকলেও, সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্কে ইতি পড়েছিল। তবে ব্যক্তিগত দূরত্ব ও অতীতের সমস্ত মান-অভিমানকে পিছনে ফেলে পরিচালক ও অভিনেতা দেবের হাত ধরেই বহু বছর পর বড়পর্দায় কামব্যাক করেছে এই প্রাক্তন জুটি। ‘ধূমকেতু’ ছবির হাত ধরে বহু প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে তাঁরা ফের একসঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছিলেন, আর তার সাফল্যের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তাঁরা জুটি বেঁধেছেন নতুন ছবি ‘দেশু৭’-এ। ইতিমধ্যেই এই ছবির সমস্ত শ্যুটিং পর্ব সাফল্যের সঙ্গে শেষ হয়ে গেছে, আর ছবির র‍্যাপ আপ পার্টিতে এসে অভিনেতা দেব যে সমস্ত তথ্য ফাঁস করলেন, তা শোনার পর থেকেই বিনোদন দুনিয়ায় নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ছবি ও শ্যুটিংয়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অভিনেতা দেব অকপটে স্বীকার করেন যে এই ছবির কাজের শুরুতেই তাঁর জীবনে একটি বিশেষ ঘটনা ঘটেছিল। দেব জানান, সেটি ছিল ৩১ ডিসেম্বরের একটি বিশেষ রাত। সেই রাতে তাঁর কাছে শুভশ্রীর কোনো ফোন নম্বরও ছিল না। উপায় না দেখে তিনি তাঁর ম্যানেজারকে ডেকে শুভশ্রীর নম্বর জোগাড় করতে বলেন। ম্যানেজারের ফোনবুক চেক করতেই দেখা যায় তাঁর কাছে নায়িকার নম্বর সেভ করা রয়েছে। সমস্ত দ্বিধাদ্বন্দ্ব ঝেড়ে ফেলে একেবারে মাঝরাত অর্থাৎ ঘড়ির কাঁটায় তখন ঠিক রাত দুটো বাজে, সেই সময়ই শুভশ্রীকে সরাসরি ফোন করে বসেন দেব। স্বাভাবিকভাবেই দেবের মতো ব্যস্ত একজন নায়ক মাঝরাতে এমন একটি ফোন করায় তাঁর ম্যানেজারও প্রচণ্ড অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই একটি ফোন কলের মাধ্যমেই দুই তারকার মধ্যের সমস্ত বরফ গলে জল হয়ে যায় এবং নতুন সম্পর্কের এক দারুণ পথ চলা শুরু হয়।

দেব নিজেই সেই পুরোনো স্মৃতির রোমন্থন করে মজার ছলে জানান, সেই বিশেষ রাত থেকে শুরু করে আজ এই দীর্ঘ যাত্রাপথ পর্যন্ত যা কিছু ঘটেছে, তা অত্যন্ত ইতিবাচক এবং চমৎকার হয়েছে। তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, এই পুরো যাত্রাপথ যেন সবদিক থেকে ‘শুভ আর শুভ’ হয়ে গেছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় সকলের কাছে অত্যন্ত আদরে ‘শুভ’ নামেই পরিচিত এবং দেব নিজেও তাঁকে এই নামেই ডাকেন। যদিও অতীতে ‘ধূমকেতু’ ছবির মুক্তির ঠিক আগে এই জুটির মধ্যে সামান্য মনকষাকষি ও মান-অভিমান তৈরি হয়েছিল, তবে বর্তমান সময়ে সেই সমস্ত তিক্ততা সম্পূর্ণ অতীত। পর্দার বাইরে নিজেদের ব্যক্তিগত জীবন ও কেরিয়ারে দুজনেই আজ যথেষ্ট সফল এবং প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু তা সত্ত্বেও দেব-শুভশ্রীর এই পুরনো রসায়ন আজও কলকাতার সিনেমাপ্রেমী দর্শকদের নস্টালজিয়ার পারদ এক লহমায় চড়িয়ে দিতে সক্ষম।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *