খাঁটি গরুর দুধের নামে ঘরে ঘরে খাচ্ছেন বিষাক্ত জল? নভি মুম্বইয়ে ভেজাল দুধের বিশাল চক্র ফাঁস!

প্রতিদিন সকালে যে দুধ খাচ্ছেন, তা কি আদৌ খাঁটি? এই প্রশ্নকে ফের উসকে দিয়ে নভি মুম্বইয়ে ভেজাল দুধের একটি বিশাল চক্রের সন্ধান পেল ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA)। মহাপে এমআইডিসির (Mahape MIDC) একটি ডেয়ারিতে অভিযান চালিয়ে লক্ষাধিক টাকার ভেজাল এবং সন্দেহজনক দুগ্ধজাত পণ্য বাজেট করে ধ্বংস করেছে প্রশাসন।
ঠাণে জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৯ আগস্ট এফডিএ-র একটি বিশেষ দল ‘এম/এস পিকে ডেয়ারি’-তে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় এক ব্যক্তিকে ট্যাঙ্কারের ভেতরে স্কিমড মিল্ক পাউডার (SMP) এবং ঠাণ্ডা জলের মিশ্রণ দিয়ে দুধের পরিমাণ বাড়াতে হাতেনাতে ধরা হয়। ধৃত ব্যক্তির নাম শিবেন্দ্র শ্যামলাল জয়সওয়াল। ওই ডেয়ারির মালিক প্রদীপ কমলেশ যাদবসহ তাকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মাত্র ১ কেজি স্কিমড মিল্ক পাউডারের সঙ্গে প্রায় ৮ থেকে ১০ লিটার জল মিশিয়ে এই ভয়ংকর ভেজাল তৈরি করা হতো। এরপর সেই মিশ্রণ আসল দুধের সঙ্গে মিশিয়ে ঠাণে, আইরোলি, কোপরি, দিঘা এবং ঘানসোলির বিভিন্ন ডেয়ারি ও দোকানে সরবরাহ করা হতো। সাধারণ ক্রেতাদের কাছে তা খাঁটি গরু বা মোষের দুধ বলে বিক্রি করা হতো।
লাইসেন্স ছাড়াই অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করার অভিযোগে ওই ডেয়ারিটি সিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে ৪,০০০ লিটারের বেশি ভেজাল ও সন্দেহজনক দুধ ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া ১২৯.৫ কেজি পনির, ৪৭৩ কেজি স্কিমড মিল্ক পাউডার এবং ৮৮.৪ কেজি ক্রিম বাজেট করা হয়েছে। শুধুমাত্র ধ্বংস করা দুধের বাজারমূল্য প্রায় ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ৭৮০ টাকা।
এই চক্রের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত ১৫ জন ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গত ২২ আগস্ট টারভে পুলিশ স্টেশনে একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। যে দুটি প্রধান ডেয়ারিতে অভিযান চালানো হয়েছিল তাদের মালিকদের পাশাপাশি ভেজাল পণ্য সংগ্রহ ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য আউটলেটগুলোর বিরুদ্ধেও মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্ত সমস্ত ভেন্ডর আউটলেটের লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়া বর্তমানে শুরু হয়েছে।