মন্ত্রীর এলাকাতেই জোড়া ধাক্কা! তৃণমূলের হাতছাড়া হয়ে বড় ব্যবধানে বিজেপি-র দখলে দুই পঞ্চায়েত

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের হাওয়া যেন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের হাত থেকে একের পর এক এলাকা হাতছাড়া হওয়ার ধারা বজায় রেখে এবার পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুর-২ ব্লকের দুটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রাম পঞ্চায়েত নিজেদের দখলে নিল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। কাকতালীয়ভাবে, এই দুটি পঞ্চায়েতই পড়ে রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী তথা স্থানীয় বিধায়ক শান্তনু প্রামাণিকের বিধানসভা এলাকার অন্তর্ভুক্ত। সোমবার এই দুটি গ্রাম পঞ্চায়েতেই নতুন বোর্ড গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। জানা গিয়েছে, ১৯টি আসন বিশিষ্ট বাসুদেববেড়িয়া পঞ্চায়েতের ১৫টি আসন অতীতে শাসকদল তৃণমূলের দখলে থাকলেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের জেরে পূর্বতন প্রধান ও উপপ্রধান পদত্যাগ করেন। এরপর নতুন গঠিত বোর্ডে প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন সারদা বর্মন এবং উপপ্রধান হন পশুপতি দলাই। এই বোর্ড গঠনে বিজেপি-র চারজন সদস্য ছাড়াও তৃণমূলের একাধিক সদস্য উপস্থিত থেকে সমর্থন জানান বলে খবর।অন্যদিকে, ১৬টি আসনের রাধাপুর পঞ্চায়েতের চিত্রটাও প্রায় একই রকম। সেখানেও পূর্বতন প্রধান ও উপপ্রধান পদত্যাগ করায় নতুন করে বোর্ড গঠন করে বিজেপি। এই পঞ্চায়েতে প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হন বুদ্ধদেব প্রধান এবং উপপ্রধান হন অরুণা মান্না। যদিও স্থানীয় সূত্রে খবর, এই পঞ্চায়েতে ১১টি আসনে তৃণমূল জয়ী হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে বিজেপি-র ৫ জন সদস্য ও কয়েকজন ঘরত্যাগী তৃণমূল সদস্যের প্রত্যক্ষ সমর্থনে বোর্ড দখল করতে সফল হয় গেরুয়া শিবির।বোর্ড গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পঞ্চায়েত এলাকাতেই উৎসবের মেজাজ দেখা যায়। একে অপরকে আবির মাখানো থেকে শুরু করে বিজয়ী উল্লাসে মেতে ওঠেন কর্মীরা। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক তথা প্রতিমন্ত্রী শান্তনু প্রামাণিক, বিজেপি-র কাঁথি সাংগঠনিক জেলা সম্পাদক শুভাশিস মাইতিসহ অন্যান্য স্থানীয় নেতৃত্ব। মন্ত্রীর নিজের এলাকায় এমন রাজনৈতিক পালাবদল রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চর্চার জন্ম দিয়েছে।