বারবার পাসওয়ার্ড টাইপ করতে গিয়ে এই মারাত্মক ভুলটি করছেন না তো? জেনে নিন সুরক্ষার আসল চাবিকাঠি

স্মার্টফোনের সুরক্ষা নিয়ে আজকের দিনে কম-বেশি সকলেরই মাথা ব্যথার শেষ নেই। সারাদিন মনে এক অজানা আশঙ্কা কাজ করে যে, এই বুঝি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খালি হয়ে গেল কিংবা হাতের মুঠোয় থাকা ফোনের সমস্ত ব্যক্তিগত ছবি, চ্যাট ও গোপনীয় তথ্য অন্যের চোখের সামনে চলে গেল। বর্তমানের এই ডিজিটাল যুগে দৈনন্দিন ব্যাংকিং লেনদেন, অফিসের জরুরি অফিশিয়াল মেল থেকে শুরু করে সোশাল মিডিয়ার সমস্ত তথ্য এখন হাতের একটি ছোট্ট স্মার্টফোনেই বন্দি থাকে। আর এই বহুমুখী ব্যবহারের কারণে ফোন সুরক্ষিত রাখতে গিয়ে অনেকেই একটা সাধারণ ভুল করে বসেন। অনেকে মনে করেন, ফোনে যত বড় এবং জটিল পাসওয়ার্ড দেওয়া যাবে, বুঝি ততটাই নিরাপদ থাকবে ডিভাইসটি। কিন্তু প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সাম্প্রতিক দাবি অনুযায়ী, এই বহুল প্রচলিত ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সুরক্ষিত থাকা আর নিজের ফোনের স্ক্রিন লক করা—এই দুটি বিষয় সম্পূর্ণ আলাদা। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে লম্বা ও জটিল পাসওয়ার্ড দেওয়া অত্যন্ত কার্যকর এবং জরুরি। কিন্তু সমস্যা হলো, সারাদিনে অন্তত একশো বার ফোন আনলক করার সময় অত বড় পাসওয়ার্ড বারবার টাইপ করা অত্যন্ত বিরক্তিকর ও সময়সাপেক্ষ। এই ঝামেলা এড়াতে গিয়ে বেশিরভাগ মানুষই তাদের সেই পাসওয়ার্ডটি ফোনের নোটবুকে লিখে রাখেন কিংবা পরিবারের সদস্য বা পাশের বন্ধুকে সহজ করে বলে দেন। আর এই ছোট্ট মানুষের ভুলেই ফোনের সম্পূর্ণ ডিজিটাল নিরাপত্তা একেবারে ধূলিসাৎ হয়ে যায়।

ঠিক এই কারণেই ফোনের স্ক্রিন লকের জন্য লম্বা পাসওয়ার্ডের বদলে একটি শক্তপোক্ত পিন বা PIN ব্যবহার করা অনেক বেশি ফলদায়ক ও কাজের। আজকের আধুনিক স্মার্টফোনগুলিতে এমন উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে যে, যদি কেউ ভুল পিন বারবার দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে প্রতিবার ভুল চেষ্টার পর লক হওয়ার সময়সীমা বাড়তে থাকে অথবা ফোনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিছুক্ষণের জন্য সম্পূর্ণ ব্লক হয়ে যায়। এর ফলে বাইরের কোনো অপরিচিত মানুষ বা অসৎ ব্যক্তি আন্দাজে এলোমেলো নম্বর বসিয়ে ফোন খোলার সুযোগ পায় না। তবে পিন সেট করার সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। কখনো ভুল করেও ১২৩৪, ০০০০, নিজেদের জন্মতারিখ কিংবা গাড়ির নম্বরের মতো অত্যন্ত সহজ সংখ্যাগুলি পাসওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহার করা চলবে না। এমন একটি পিন বেছে নেওয়া উচিত যার সঙ্গে আপনার ব্যক্তিগত জীবনের কোনো পরিচিত মিল নেই।

অন্যদিকে, আপনার বিভিন্ন অনলাইন অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে কিন্তু লম্বা এবং কঠিন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ। বিশেষ করে সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেল এবং ব্যাংকিং অ্যাপগুলির জন্য সবসময় আলাদা আলাদা এবং ভিন্ন ভিন্ন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে। এর পাশাপাশি অবশ্যই টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন বা টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন সিস্টেম চালু রাখতে হবে। এর ফলে যদি কোনোভাবে আপনার পাসওয়ার্ড অন্য কেউ জেনেও যায়, তবুও আপনার সুনির্দিষ্ট অনুমতি ছাড়া কেউ সেই অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারবে না। অর্থাৎ, অত্যন্ত সহজ ভাষায় বললে, ফোনের স্ক্রিন আনলক করার জন্য একটি শক্তপোক্ত পিন এবং অনলাইন অ্যাকাউন্টে আলাদা কঠিন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করলেই আপনার সম্পূর্ণ ডিজিটাল জীবন থাকবে নিরাপদ ও সুরক্ষিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *