অফিসের স্ট্রেস আর ক্লান্তি নিমেষে উধাও! কোন ১০টি খাবার খেলে শরীরে বাড়বে ‘হ্যাপি হরমোন’?

বর্তমান দ্রুতগতির জীবনযাত্রা, অফিসের কাজের প্রচণ্ড চাপ এবং দৈনন্দিন দুশ্চিন্তা আমাদের মেজাজ বা মানসিক অবস্থার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। এর ফলে আমরা প্রায়শই ক্লান্তি, মানসিক চাপ ও বিষণ্নতার শিকার হই। এর একটি অন্যতম মূল কারণ হল আমাদের শরীরে ‘হ্যাপি হরমোন’ বা সুখদায়ক হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়া।

যদিও এই হরমোনগুলির ভারসাম্য বজায় রাখতে যোগব্যায়াম, ধ্যান এবং নিয়মিত শরীরচর্চা অত্যন্ত কার্যকর, তবে আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসও এক্ষেত্রে জাদুকরী ভূমিকা পালন করতে পারে। পুষ্টিবিদদের মতে, সঠিক পুষ্টি কেবল মানসিক চাপকেই দূরে রাখে না, বরং মানসিক ও আবেগীয় সুস্থতাকেও বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে। প্রাকৃতিকভাবে শরীরে ‘হ্যাপি হরমোন’-এর নিঃসরণ বাড়াতে যে খাবারগুলি নিয়মিত পাতে রাখা জরুরি, একনজরে দেখে নেওয়া যাক তার তালিকা:

ডার্ক চকলেট: ডার্ক চকলেট কেবল স্বাদের তৃপ্তিই দেয় না, বরং মেজাজ ভালো রাখতেও দারুণ ভূমিকা পালন করে। এতে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড ও থিওব্রোমিনের মতো উপাদানগুলি শরীরে দ্রুত এন্ডোরফিন ও সেরোটোনিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা তাৎক্ষণিক আনন্দের অনুভূতি এনে দেয়।

অ্যাভোকাডো: অ্যাভোকাডো উপকারী উপাদানের এক বিশাল ভাণ্ডার। এতে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ফোলেট এবং ভিটামিন বি৬ শরীরের ডোপামিন ও সেরোটোনিন উৎপাদনে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

বাদাম ও বীজ: মানসিক চাপের হরমোন কমাতে চাইলে আখরোট, কাঠবাদাম, কুমড়োর বীজ এবং সূর্যমুখীর বীজকে আপনার নিয়মিত স্ন্যাকস হিসেবে বেছে নিন। এগুলিতে থাকা প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও ম্যাগনেসিয়াম নিউরোট্রান্সমিটারের ভারসাম্য বজায় রেখে মনকে প্রফুল্ল রাখে।

বেরি জাতীয় ফল: স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি এবং রাস্পবেরির মতো রসালো ফলগুলি অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর। এই ফলগুলি শরীরে এন্ডোরফিন ও সেরোটোনিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে সারাদিন মন ভালো থাকে।

ওটস: ব্রেকফাস্টে ওটস খাওয়া একটি চমৎকার সিদ্ধান্ত। ওটসে থাকা প্রচুর ফাইবার এবং স্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেট শরীরে সেরোটোনিনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে।

চর্বিযুক্ত মাছ: আপনি যদি আমিষভোজী হন, তবে স্যামন, ম্যাকেরেল এবং সার্ডিনের মতো মাছ দারুণ বিকল্প। এগুলিতে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ডোপামিন ও সেরোটোনিনের মাত্রা বাড়িয়ে মানসিক চাপ ও বিষণ্নতা দূর করতে কার্যকর।

ডাল ও শিমজাতীয় খাবার: ভারতীয় খাদ্যাভ্যাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ যেমন—ছোলা, মুগ ডাল এবং মুসুর ডাল, প্রোটিন ও ট্রিপটোফ্যানে সমৃদ্ধ। এই উপাদানগুলি শরীরকে সেরোটোনিন তৈরিতে সহায়তা করে, যার প্রত্যক্ষ সুফলে কেবল মনই ভালো থাকে না, গভীর ও আরামদায়ক ঘুমও নিশ্চিত হয়।

প্রোবায়োটিক খাবার: অন্ত্র (gut) এবং মস্তিষ্কের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। কিমচি এবং প্রোবায়োটিক দইয়ের মতো খাবারে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করার মাধ্যমে শরীরে এন্ডোরফিন ও সেরোটোনিনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে।

কলা: প্রায় সব ঋতুতেই পাওয়া এই ফলটিতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম ও ট্রিপটোফ্যান থাকে, যা ডোপামিন ও সেরোটোনিনের মাত্রা বাড়িয়ে মন সতেজ রাখতে সহায়তা করে।

গ্রিন টি: দিনের ক্লান্তি দূর করার জন্য গ্রিন টি একটি চমৎকার পানীয়। এতে থাকা ‘এল-থিয়ানিন’ (L-theanine) নামক অ্যামিনো অ্যাসিড মানসিক চাপ কমায়। ভালো ফল পেতে প্রতিদিন ১ থেকে ২ কাপ গ্রিন টি পান করা অত্যন্ত উপকারী।

ব্যস্ত জীবনে কেবল কাজের পিছনে না ছুটে নিজের স্বাস্থ্য ও সুখকেও অগ্রাধিকার দিন। শরীরে প্রাকৃতিকভাবে ‘হ্যাপি হরমোন’-এর জোগান ঠিক রাখতে এই সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবারগুলোকে আজই আপনার দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের অংশ করে তুলুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *