মিনি ক্যামেরা দিয়ে প্রশ্নফাঁস! ১১ হাজারে সিলগালা খাম বিক্রি করতেই হাতেনাতে ধরা অধ্যাপক

ছত্তিশগড়ের দুর্গে ইন্দিরা গান্ধী কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকের দ্বিতীয় বর্ষের এন্টোমোলজি অর্থাৎ কীটতত্ত্ব পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত ব্যবস্থার বেড়াজাল ভেঙে অত্যন্ত চতুর কায়দায় এই প্রশ্নফাঁস করা হয়। চাঞ্চল্যকর এই অভিযোগের ভিত্তিতে এক অধ্যাপক সহ মোট ছ’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার গভীরে গিয়ে তদন্ত চলছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত ওই অধ্যাপকের নাম যোগেশ সঙ্কেসারিয়া। তিনি দুর্গের ভারতী এগ্রিকালচার কলেজে শিক্ষকতা করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনিই পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সিল করা বা মুখবন্ধ খামটি খোলেন। এরপর একটি মিনি এন্ডোস্কোপিক ক্যামেরার সাহায্যে অত্যন্ত সুকৌশলে প্রশ্নপত্রের ছবি তুলে নেন তিনি। এই ফাঁস হওয়া প্রশ্নপ্রত্রের ছবি এরপর তিনি ১১,০০০ টাকার বিনিময়ে অজয় নায়েক ও অন্য দুই ছাত্রের কাছে বিক্রি করেন। পরবর্তীকালে সেই প্রশ্নপত্র সমাজমাধ্যম এবং হোয়াটসঅ্যাপের সাহায্যে অন্যান্য পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে যায়।
জানা গিয়েছে, গত ২০ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত নির্ধারিত পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরীক্ষার আগেই সকাল পৌনে ন’টা নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শাখায় ইমেল ও হোয়াটসঅ্যাপ মারফত প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রমাণ-সহ সতর্কবার্তা এসে পৌঁছয়। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তৎক্ষণাৎ পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন।
তবে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ পাওয়ার মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীদের ধরে ফেলে পুলিশ। দুর্গের ক্রাইম ও সাইবার সেলের ডেপুটি কমিশনার স্মৃতিক রাজনালা জানান, ঘটনার তদন্তের পর অধ্যাপক যোগেশ সঙ্কেসারিয়া এবং পাঁচ ছাত্র— অজয় নায়েক, ত্রিদেব প্যাটেল, নীতিন পান্ডে, অনুজ মিনজ ও আদিত্য সাহুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঘটনায় ধৃতদের বিরুদ্ধে ছত্তিশগড় পাবলিক পরীক্ষা সংক্রান্ত ২০০৮ সালের আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩১৬ ধারা অনুযায়ী অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মামলা রুজু করা হয়েছে। প্রশ্নফাঁস চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং প্রশ্নপত্র আর কোথায় কোথায় ছড়িয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে এখনও চলছে পুলিশি তদন্ত।