সবজি একসঙ্গে খেলে কিডনিতে পাথর হয়—এই দাবি কতটা সত্য? বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতামত ও আসল তথ্য জেনে নিন।

সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে প্রায়ই নানা ধরনের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ভুয়া তথ্য দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে একটি অত্যন্ত প্রচলিত ধারণা হলো, কিছু নির্দিষ্ট সবজি একসঙ্গে খেলে নাকি নিশ্চিতভাবে কিডনিতে পাথর হয়। বিশেষ করে পালং শাক বা অন্যান্য বিশেষ সবজির কম্বিনেশন নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা আতঙ্ক কাজ করে। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞান ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ধারণার সপক্ষে সরাসরি কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি বা প্রমাণ নেই।
বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কিডনিতে পাথর তৈরির প্রক্রিয়াটি কেবল দুটি নির্দিষ্ট সবজি একসঙ্গে খাওয়ার ওপর নির্ভর করে না। এর পেছনে কাজ করে শরীরের সামগ্রিক বিপাকক্রিয়া, জলের ঘাটতি, খাবারে অতিরিক্ত নুনের পরিমাণ এবং ক্যালসিয়াম ও অক্সালেটের ভারসাম্যহীনতা। যেমন, পালং শাকে অক্সালেটের পরিমাণ কিছুটা বেশি থাকায় যাঁদের আগে থেকেই ক্যালসিয়াম-অক্সালেট ধরনের পাথরের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এটি পরিমিত খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে সাধারণ মানুষ ডায়েট থেকে পালং শাক পুরোপুরি বাদ দেবেন। কিডনি সুস্থ রাখতে মূলত পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা, খাবারে নুনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা এবং শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী সুষম খাবার খাওয়া অত্যন্ত জরুরি।
সংবাদের মূল হাইলাইটস
ভ্রান্ত ধারণা: নির্দিষ্ট দুটি সবজি একসঙ্গে খেলেই কিডনিতে পাথর জমে—এই দাবির সপক্ষে সরাসরি কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ বা ভিত্তি নেই।
মূল কারণসমূহ: শরীরে জলের ঘাটতি, অতিরিক্ত নুন খাওয়া এবং ক্যালসিয়াম ও অক্সালেটের ভারসাম্যহীনতার ফলেই মূলত কিডনিতে পাথর তৈরি হতে পারে।
পালং শাকের ভূমিকা: পালং শাকে অক্সালেট থাকলেও যাঁদের পাথরজনিত সমস্যা নেই, তাঁদের এটি সম্পূর্ণ বর্জন করার কোনো প্রয়োজন নেই।
প্রতিরোধের উপায়: কিডনি সুস্থ রাখতে নিয়মিত পর্যাপ্ত জল পান করা, সুষম আহার এবং প্রয়োজনে পুষ্টিবিদ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।