৭ বিঘার বিশাল জলাশয় কি তবে চোখের নিমেষে উধাও হয়ে যাবে? শহরের অভিজাত এলাকায় পুকুর ভরাটের নেপথ্যে কোন চাঞ্চল্যকর রহস্য লুকিয়ে রয়েছে?

বাইপাস সংলগ্ন গীতাঞ্জলি পার্ক এলাকায় একসময়ের সাত বিঘারও বেশি আয়তনের একটি বিরাট ও টলটলে জলের জলাশয় আজ জমি হাঙর ও প্রোমোটারদের আগ্রাসনে সঙ্কুচিত হয়ে এক বিঘারও নিচে নেমে এসেছে। বাম আমল থেকে শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এই জলাভূমি ভরাট করে দেদার ফ্ল্যাট ও অবৈধ কাঠামো গড়ে তোলার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। জলাশয়টি বাঁচানোর চেষ্টা করায় স্থানীয় প্রতিবাদী বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়ার মতো হেনস্থার অভিযোগও সামনে এসেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অভিজাত এই এলাকায় বর্গফুট প্রতি ফ্ল্যাটের চড়া দাম থাকায় বহু আগে থেকেই পুকুরটি লিজ বা জবরদখল করে ভরাট করার চক্রান্ত শুরু হয়েছিল। জঞ্জাল ও রাবিশ ফেলে দিনের পর দিন পুকুরের পার গ্রাস করা হয়েছে। যদিও পরিবেশপ্রেমী ও স্থানীয় নাগরিকদের দীর্ঘ আইনি লড়াই এবং প্রতিবাদের মুখে মাঝে-মধ্যে কিছু সাফাইয়ের কাজ হয়েছে, তবুও স্থায়ী কোনো সমাধান মেলেনি। বর্তমানে পুকুরের চর্তুদিকে টিনের বেড়া দিয়ে অবৈধ নির্মাণ কাজ চলায় বর্ষার জল নিকাশি ও স্থানীয় পরিবেশ মারাত্মক বিপদের মুখে পড়েছে। এলাকাবাসী এখন নতুন সরকার ও প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করে জলাশয়টির পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
সংবাদের মূল হাইলাইটস
বিশাল জলাশয় সঙ্কুচিত: বাইপাসের ধারের গীতাঞ্জলি পার্কের ৭ বিঘার বেশি আয়তনের ঐতিহাসিক জলাশয়টি আজ বেদখল হতে হতে ১ বিঘারও কম জায়গায় এসে ঠেকেছে।
অবৈধ দখল ও নির্মাণ: জলাভূমি ভরাট করে দেদার ফ্ল্যাট, দোকান ও গুদামঘর তোলার পাশাপাশি ময়লা-আবর্জনা ফেলে পুকুরটিকে বুজিয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিবাদীদের হেনস্থা: এই জলাশয় রক্ষার্থে যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে আইনি প্যাঁচে ফাঁসানোর অভিযোগ রয়েছে।
প্রশাসনের নীরবতা: বারবার কাউন্সিলর থেকে শুরু করে বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভে ফুটছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।