রসগোল্লা সহ সব মিষ্টির দাম বাড়তে চলেছে? পুজো আসতেই পকেট খালি বাঙালির প্রিয় মিষ্টির

বাজারে চিনির লাগামছাড়া দাম বৃদ্ধির জেরে সাধারণ মানুষের পকেট ফাঁকা হওয়ার জোগাড় হয়েছে। কেজিতে প্রায় কুড়ি টাকা পর্যন্ত দাম বেড়ে চিনির দর এখন পৌঁছে গিয়েছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়। এর প্রভাব সরাসরি পড়তে চলেছে বাঙালির অত্যন্ত প্রিয় রসগোল্লা, পান্তুয়া, সন্দেশ এবং ল্যাংচার বাজারে। অতিথি আপ্যায়ন থেকে শুরু করে ভোজনরসিক বাঙালির শেষ পাতের মিষ্টি এবার অনেকটাই মহার্ঘ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাস, ভোজ্য তেল এবং ছানার দাম আগেই সাধারণ মানুষের চিন্তা বাড়িয়েছিল, আর এবার চিনির এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি মিষ্টির বাজারে বড় ধাক্কা দিল।

প্রসিদ্ধ মিষ্টির দোকানগুলির কর্ণধার ও আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, যে হারে কাঁচামালের দাম বাড়ছে, তাতে মিষ্টির দাম না বাড়িয়ে কোনো উপায় নেই। ভবানীপুরের বিখ্যাত মিষ্টির দোকান বলরাম মল্লিক ও রাধারমন মল্লিকের আধিকারিক চন্দন হাজরা জানিয়েছেন যে প্রতি ৩-৪ দিনে তাঁদের ১০ কুইন্টাল চিনি প্রয়োজন হয়। চিনির দাম ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। বর্তমানে এই দোকানে ন্যূনতম কুড়ি টাকার রসগোল্লা ও পঁচিশ টাকার সন্দেশ পাওয়া গেলেও, চিনির দাম না কমলে এই দামে মিষ্টি ধরে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে। একই রকম উদ্বেগের কথা শোনা গিয়েছে কলকাতার অন্য এক নামী মিষ্টির প্রতিষ্ঠান গুপ্তা ব্রাদার্সের কর্ণধার গজেন্দ্র গুপ্তার গলাতেও। তিনি জানান, প্রতি কেজি চিনিতে পঁচিশ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিটি মিষ্টির দাম অন্তত দশ শতাংশ বা দেড় থেকে দু’টাকা বাড়ানো ছাড়া ব্যবসায়িক টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে, পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড়ের ঐতিহ্যবাহী ল্যাংচা ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণ এবং ল্যাংচা হাবের সামনে উড়ালপুল তৈরি হওয়ার কারণে এমনিতেই দোকানের সামনে গাড়ি দাঁড়ানোর সুযোগ ও ক্রেতার আনাগোনা কমেছে। তার ওপর ল্যাংচা তৈরির প্রধান উপকরণ চিনির এই মূল্যবৃদ্ধি তাঁদের ব্যবসায়ে বড়সড় ছাঁট এনেছে। এখন প্রশ্ন হলো, ব্যবসায়ীরা কি মিষ্টির দাম বাড়াবেন, নাকি মিষ্টির আকার ছোট করে এই ক্ষতি পুষিয়ে নেবেন? সব মিলিয়ে, পুজো বা উৎসবের মরশুমের আগেই মিষ্টির চড়া দাম আমজনতার মুখের হাসি কেড়ে নিতে পারে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *