রেকর্ড আখ চাষ সত্ত্বেও চিনির দাম বাড়ছে কেন? ইথানল নীতি নাকি অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে নেপথ্যে?

দেশে একদিকে যখন রেকর্ড পরিমাণ আখ উৎপাদনের পূর্বাভাস রয়েছে, ঠিক তখনই চিনির বাজারমূল্য ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী কাঁচামালের উৎপাদন বাড়লে দাম হ্রাসের কথা থাকলেও, বর্তমান বাজারে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। মূলত আখ উৎপাদনের মোট পরিমাণ এবং সেই আখ থেকে প্রকৃত চিনি নিষ্কাশনের ক্ষমতা—দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। চলতি মরসুমে দেশের গড় রিকভারি রেট বা চিনি নিষ্কাশনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাওয়ায় উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতির পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করছে ছত্রাকঘটিত রোগ রেড রট এবং পোকার আক্রমণ তথা টপ বোরার। অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে জমিতে জল জমে যাওয়ার কারণে আখের ভেতরের গুণমান মার খেয়েছে। এর ফলে দেখতে প্রচুর আখ মনে হলেও গুণগত মান খারাপ থাকায় কাঙ্খিত পরিমাণে চিনি তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না। আইসিএআর-এর মাঠ সমীক্ষাতেও আগে থেকেই এই রোগ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি চিহ্নিত করা হয়েছিল। পাশাপাশি, সরকারের প্রাথমিক পর্যায়ে রফতানির অনুমতি এবং পরবর্তী সময়ে জোগান বজায় রাখতে তাতে নিয়ন্ত্রণ আনার নীতিও বাজারে কিছুটা প্রভাব ফেলেছে।
অনেকেই ইথানল উৎপাদনকে চিনির ঘাটতির মূল কারণ হিসেবে দায়ী করলেও সরকারি পরিসংখ্যান অন্য কথা বলছে। তথ্যানুযায়ী, ইথানল তৈরিতে চিনির ব্যবহার বিগত বছরগুলির তুলনায় যথেষ্ট হ্রাস পেয়েছে। এমতাবস্থায়, জুলাই মাসের শেষের দিকে চিনির খুচরো দাম যা ছিল, তা অগাস্টের মাঝামাঝি সময়ে অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। সামনেই গণেশ চতুর্থী, দুর্গাপুজো এবং দীপাবলির মতো বড় উৎসবের মরশুম রয়েছে। এই উৎসবগুলিতে মিষ্টি থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাদ্যে চিনির চাহিদা বহুলাংশে বেড়ে যায়। ফলে বাজারে চিনির সঠিক জোগান বজায় রাখা এবং কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধি রোধ করাই এখন প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।