ভাঙড়ে ফের ধুন্ধুমার! আইএসএফ ছাড়তেই আরাবুল ইসলামের গাড়িতে হামলা, উঠল ‘চোর’ স্লোগান

বিধানসভা নির্বাচন মিটতেই ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভাঙড়ের রাজনৈতিক অঙ্গন। একসময়ের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা তথা সম্প্রতি আইএসএফ (ISF) ত্যাগ করা আরাবুল ইসলামকে ঘিরে ভাঙড় ২ পঞ্চায়েত সমিতিতে তীব্র বিক্ষোভ ও দফায় দফায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। আইএসএফ ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুড়ে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে।

পঞ্চায়েত সমিতিতে উত্তেজনা ও পুলিশের কড়া পাহারা
সোমবার ভাঙড় ২ পঞ্চায়েত সমিতির দপ্তরে নিজের কক্ষে বসেন আরাবুল ইসলাম। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সম্ভাব্য অশান্তির আশঙ্কায় বিজয়গঞ্জ থানার পক্ষ থেকে চত্বরে ব্যাপক পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তার কারণে সাধারণ মানুষ ও বাইরের লোকজনের বিডিও অফিসে প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।

বাইরে বেরোতেই চড়াও ক্ষুব্ধ কর্মীরা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আইএসএফ কর্মীদের তীব্র চাপের মুখে এবং পুলিশের অনুরোধে শেষ পর্যন্ত পঞ্চায়েত সমিতি চত্বর ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন আরাবুল। তবে তিনি বাইরে আসতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাঁকে ঘিরে ‘চোর’ স্লোগান দেওয়া শুরু হয়। এরপরেই তাঁর কনভয় ও গাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছুড়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।

নেপথ্যে কোন সমীকরণ? মুখ খুললেন নওশাদ
উল্লেখ্য, ভোটের ঠিক আগে আগে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে আইএসএফ-এ নাম লিখিয়েছিলেন আরাবুল ইসলাম। কিন্তু ছাব্বিশের ভোট মিটতেই তাঁর সেই রাজনৈতিক মোহভঙ্গ ঘটে এবং তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। এর পর থেকেই ভাঙড়ে সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে। এর আগে শনিবার রাতেও বাড়ি ফেরার পথে তাঁর গাড়িতে ইট এবং বোমা ছোড়ার অভিযোগ উঠেছিল।

এই ধারাবাহিক আক্রমণ প্রসঙ্গে ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী বলেন, “আমি ভাঙড়ের বিধায়ক হিসেবে স্পষ্ট বলব, এই ধরনের হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং কোনোভাবেই কাঙ্ক্ষিত নয়। তবে যেহেতু উনি একদিন আগেই দল ছেড়েছেন, তাই আইএসএফ-এর উপর দোষ চাপানোটা স্বাভাবিক। বিষয়টি সম্পূর্ণ তদন্তসাপেক্ষ।” পাশাপাশি এর নেপথ্যে অন্য কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ বা সহানুভূতি কুড়ানোর চাল থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। বর্তমানে গোটা ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *