খাদ্য সুরক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি: ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যজুড়ে বিশেষ অভিযান, পাঁচতারা হোটেলকেও ছাড় নয়

রাজ্যের মুখ্যসচিবসহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে এদিন ফুড ইন্সপেক্টরদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে রাজ্যের খাদ্য ব্যবস্থায় ভেজালের প্রবণতা ও অসচেতনতা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, শাকসবজিতে ক্ষতিকারক রং মেশানো থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাদ্যে ভেজালের খবর প্রশাসনের নজরে আসছে, যা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে ‘ফুড সেফটি উইক’ বা খাদ্য সুরক্ষা সপ্তাহ পালনের বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে অন্তত এক হাজারটি ভিন্ন জায়গায় ঝটিকা অভিযান চালানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অভিযানের পরিধি কেবল ছোট দোকান বা সাধারণ সবজি বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং নামী-দামি পাঁচতারা ও সাততারা হোটেলেও ফুড ইন্সপেক্টরদের পরিদর্শনে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভদ্রভাবে নিয়ম বোঝানোর নির্দেশ ও কঠোর পদক্ষেপ
অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে কড়াকড়ির পাশাপাশি স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, অহেতুক ধমকচমক বা কাউকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেনস্থা করা যাবে না। ব্যবসায়ীদের নিয়মের কথা ভদ্রভাবে বুঝিয়ে বলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এর পাশাপাশি খাদ্য সুরক্ষার প্রশ্নে কোনো ধরনের অনিয়ম ধরা পড়লে কেবল আর্থিক জরিমানা করেই দায় সারার জো নেই। বরং জনস্বাস্থ্যের পক্ষে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা দোকান অবিলম্বে সিল বা বন্ধ করে দেওয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার প্রধান তথ্যসমূহ (Key Highlights):
শূন্য সহনশীলতা নীতি: মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা ও গুণমান বজায় রাখতে প্রশাসনের তরফে কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা করা হয়েছে।
বিশেষ অভিযান সপ্তাহ: আগামী ১ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে ‘ফুড সেফটি উইক’ পালন করা হবে এবং অন্তত ১ হাজার জায়গায় পরিদর্শনের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।
সর্বত্র নজরদারি: কেবল ছোট ব্যবসায়ী নয়, পাঁচতারা ও সাততারা হোটেলের রান্নাঘর ও খাদ্য সামগ্রীও এই বিশেষ পরিরীক্ষার আওতায় থাকবে।
কঠোর শাস্তি: জনস্বাস্থ্যের পক্ষে বিপজ্জনক বা গুরুতর অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।